ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০২০ : রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভজকে প্রতারণা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
একই মামলায় সাহেদের প্রধান সহযোগি তরিকুলের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিম তাদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তাদের আজ আদালতে হাজির করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা সুষ্ঠুতদন্তের জন্য প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক এস এম গাফ্ফার আলম। অপর দিকে আসামিদের আইনজীবীরা তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিম এ আদেশ দেন।
বুধবার ভোরে রিজেন্ট প্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা ইছামতি নদী থেকে আটক করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।
র‌্যাব সদস্যরা ২টি হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। প্রথমে তাকে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দরে আনা হয়। এরপর সাহেদকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য ঢাকার র‌্যাবের সদর দফতরে নেয়া হয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল উত্তরায় অভিযান পরিচালনা করে তার গোপন আস্তানা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাবাদ ও চিকিৎসা শেষে বুধবারই তাকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করা হয়।
র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া ইউংয়ের মুখপাত্র (পরিচালক) লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল আশিক বিল্লাহ বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা কোমরপুর গ্রামের ইছামতি নদী দিয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে যাবার প্রাক্কালে সাহেদকে র‌্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশী অবৈধ পিস্তল ও ম্যাগজিনভর্তি গুলি উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সাহেদ ছদ্মবেশে বোরকা পরে নৌকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার বাড়িও সাতক্ষীরায়।
গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় এলিট ফোর্স র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদরদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করে। গত ৮ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে সাহেদের প্রধান সহযোগী তারেক শিবলী ওরফে তরিকুলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
এছাড়া সাহেদের প্রতারণা কাজের অন্যতম সহযোগি মাসুদ পারভেজকে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৮ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করে সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্থান্তর করা হয়েছে।
তদন্তকারী দলের সদস্যরা উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর রিজেন্ট হাসপাতালের মূল অফিসে অভিযান চালিয়ে সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করেছে। ওই সময় তার আরও ২৩ মামলার হদিস মিলেছে। এখনও পর্যন্ত প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে মোট ৫৯টি মামলার হদিস পেয়েছে র‌্যাব, ডিবি, ও পুলিশ।
জানা গেছে, ২০১০ সালের দিকে সাহেদ ধানমন্ডি এলাকায় বিডিএস ক্লিক ওয়ান এবং কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) নামে দু’টি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দিলে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১১ সালে তাকে প্রতারণা মামলায় একবার গ্রেফতারও করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর প্রতারণার অর্থ দিয়ে তিনি রিজেন্ট গ্রুপ নামে ব্যবসা শুরু করেন। চালু করেন রিজেন্ট হাসপাতাল।
এদিকে সাহেদের সকল ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া সাহেদ করিমের দুর্নীতির অনুসন্ধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।