প্রায় বিনামূল্য নারী গার্মেন্টস শ্রমিক ১৪০০ গার্মেন্ট কর্মী সরকারিভাবে নেবে জর্দানের ৬ প্রতিষ্ঠান


Published: 2019-04-25 15:33:57 BdST, Updated: 2019-09-21 15:16:27 BdST

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জর্দানের কয়েকটি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেশিন অপারেটর’ পদে ১৪০০ নারী কর্মী নেবে। মেশিনে কাজ জানার পাশাপাশি অক্ষরজ্ঞান থাকলেই মিলতে পারে চাকরি।

বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়া, চিকিত্সাসহ বেশির ভাগ খরচই নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বহন করবে। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদেশে জনশক্তি প্রেরণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে জর্দানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি গার্মেন্টকর্মী নিয়োগ দেবে। বোয়েসেলের আলাদা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ তথ্য প্রকাশিত হয়। সব মিলিয়ে ‘মেশিন অপারেটর’ পদে প্রায় ১৪০০ নারী কর্মী চাকরির সুযোগ পাবে।

জর্দানের ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নেবে ৮০০ জন। সিডনি অ্যাপারেলসের দরকার ২০০ জন। ইন্দো-জর্দান নেবে ১০১ জন (সুইং মেশিন অপারেটর)।

নিডল ক্রাফট/ক্যাজুয়াল ওয়্যার/ফাইন অ্যাপারেলসে লাগবে ২৩৩ জন মেশিন অপারেটর এবং ২ জন প্রডাকশন সুপারভাইজার। অ্যাসেল ইউনিভার্সাল গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং নেবে ৬০ জন। এইচওয়াই অ্যাপারেলসে লাগবে ১৩ জন।

প্রডাকশন সুপারভাইজার (২ জন) ছাড়া বাকি সব পদে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কর্মী বাছাই ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠান ভেদে এ প্রক্রিয়া চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।

যোগ্যতা
বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে (www.boesl.org.bd) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, মেশিন অপারেটর পদের জন্য প্রার্থীকে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে। প্রার্থীকে ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে। প্রার্থীর পাসপোর্ট (মেয়াদসহ) থাকতে হবে।

সাক্ষাতের দিন প্রার্থীর চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড), মূল পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের ছবিযুক্ত অংশের এক সেট রঙিন ও চার সেট সাদাকালো ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। এ ছাড়া বর্তমানে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র অথবা হাজিরা কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদও (যদি থাকে) সঙ্গে রাখতে হবে।

বাছাই পদ্ধতি ও সূচি
বোয়েসেলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও অর্থ) নুর আহমেদ জানান, টেস্ট ও সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। প্রথমে সুইং মেশিনে টেস্ট দিতে হবে। একই দিন সাক্ষাত্কার দিতে হবে। জর্দানের ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বাছাই ২৬ এপ্রিল এবং মে মাসের ৩, ১০, ১৭, ২৪ ও ৩১ তারিখে বাংলাদেশ-জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (মিরপুর-২) ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (মিরপুর-১) সকাল ৭টায়। সিডনি অ্যাপারেলসের বাছাই ২৬ এপ্রিল এবং মে মাসের ৩, ১০, ১৭, ২৪ এবং ৩১ তারিখে বাংলাদেশ-জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (মিরপুর-২) সকাল ৮টায়। নিডেলক্রাফট/ক্যাজুয়াল ওয়্যার/ফাইন অ্যাপারেলসের বাছাই হবে ২৬ এপ্রিল ও ৩ মে সকাল ৮টায় বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (মিরপুর রোড, দারুসসালাম; টেকনিক্যাল মোড়ের কাছে)। ইন্দো-জর্দানের বাছাই ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ-জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (মিরপুর-২) এবং ৩ মে বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (মিরপুর রোড, দারুসসালাম) সকাল ৮টায়। অ্যাসেল ইউনিভার্সাল গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এবং এইচওয়াই অ্যাপারেলের বাছাই পরীক্ষা বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (মিরপুর রোড, দারুসসালাম) ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টায়।

বাছাইয়ে যা দেখা হয়
বাছাই প্রক্রিয়া ও সাক্ষাত্কারে বোয়েসেল এবং জর্দানের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। বাছাই পরীক্ষায় সুইং মেশিনে প্রার্থীর কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখা হয়। সেলাইয়ের মান কেমন, কী ধরনের ফ্যাব্রিকসে কী ধরনের সেলাই এবং কত নম্বর সেলাই দিতে হবে। একই সঙ্গে কাজের মান কেমন হলো, সময় কেমন লাগছে তা-ও দেখবেন প্রতিনিধিরা।

সাক্ষাত্কারে প্রার্থীর নিজের সম্পর্কে, কাজের বিষয়ে, পারিবারিক বিষয়ে, বিদেশে কাজের ব্যাপারে আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে। যাদের যোগ্য মনে হবে, তাদেরই নির্বাচিত করা হবে।

খরচাপাতি
নুর আহমেদ জানান, সব কম্পানির মেশিন অপারেটর পদে নির্বাচিত নারী প্রার্থীদের  ফির সব টাকা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান দেবে। ভিসা, যাওয়া-আসার বিমান টিকিটের খরচ প্রতিষ্ঠান দেবে। শুধু মেডিক্যাল ফির জন্য ১০০০ টাকা, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ২২০ টাকা এবং অঙ্গীকারনামার স্ট্যাম্পের ৩০০ টাকা প্রার্থীকে দিতে হবে।

বেতন-ভাতা
জর্দানের ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অ্যাসেল ইউনিভার্সাল গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং এবং নিডলক্রাফট/ক্যাজুয়াল ওয়্যার/ফাইন অ্যাপারেলস কর্মীরা প্রতি মাসে বাংলাদেশি টাকায় মূল বেতন ১৪,৫০০ টাকা পাবেন। প্রডাকশন সুপারভাইজার পাবেন ৫০,০০০ টাকা। ইন্দো-জর্দানের কর্মীরা ১৭৭ ইউএস ডলার বা ১৫,০০০ টাকা। সিডনি অ্যাপারেলস এলএলসির মূল বেতন ১৫,৫২৫ টাকা। এইচওয়াই অ্যাপারেলে মূল বেতন ১৪,৫০০ টাকা (ওভারটাইমসহ)। প্রত্যেক কর্মীকে প্রতিদিন আট ঘণ্টার (১ ঘণ্টা বিরতিসহ) ডিউটি করতে হবে। সপ্তাহে ৬ দিন ডিউটি। কর্মীরা চাইলে ওভারটাইমও করতে পারবে।

ওভারটাইমসহ সব মিলে একজন কর্মীর মাসিক বেতন পড়বে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা (বাংলাদেশি টাকার হিসাবে)। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের থাকা, খাওয়া, চিকিত্সা ও যাতায়াতের যাবতীয় সুবিধা দেবে। এ ছাড়া হাজিরা ভাতা, টার্গেট ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উত্সব বোনাসসহ অন্যান্য সুবিধাও পাবেন নিয়োগপ্রাপ্তরা।

বছরে মোট ১৪ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং ডাক্তারের পরার্মশমতো মিলবে ১৫ দিনের মেডিক্যাল ছুটি। তিন বছর চাকরি শেষে ফেরত আসার সময় অন্যান্য সুবিধার টাকাও দিয়ে দেবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানভেদে চুক্তির মেয়াদ ২ থেকে ৩ বছর।

নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে সরকারিভাবে। কোনো দালাল বা প্রতিনিধির কাছে অর্থ লেনদেন না করার ব্যাপারে বোয়েসেলের বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়

সুত্র : কালের কণ্ঠ। 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com


Developed by: EASTERN IT