যুবলীগ ও শেখ মনি


Published: 2019-12-01 00:08:57 BdST, Updated: 2019-12-16 18:45:33 BdST

 

দীর্ঘ ২ শত বছর ইংরেজদের শোষণের পরও বাঙ্গালীদের উপর পাকিস্তানের শোষণ চলে ২৭ বছর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙ্গালীরা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের মরণাস্ত্রের সম্মুখে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর নয় মাসের যুদ্ধে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। যুদ্ধের পর শুরু হয় দেশ গঠনের মহাযজ্ঞ।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন শেখ ফজলুল হক মনি। শেখ মনির রয়েছে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়কাল থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামেও বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন। তৎকালীন সময় বেশ কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষণমুক্ত সমাজ, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা এ চার মুলনীতিকে সামনে প্রতিষ্ঠিত হয় যুবলীগ। সংগঠনটির লক্ষ্যে বলা আছে, বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠা করা।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম প্রধান গেরিলা বাহিনী ‘মুজিব বাহিনী’র কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে হানাদার পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠক ১৯৩৯ সালে ৪ ডিসেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মরহুম শেখ নূরুল হক বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি। মা শেখ আছিয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর বড় বোন।

শেখ মনি ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে মাধ্যমিক, ১৯৫৮ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৬০ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে স্নাতক এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শেখ মনি। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি গ্রেফতার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন। ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের নিকট থেকে সনদপত্র গ্রহণে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জয়লাভ করে ডিগ্রি ফিরে পান। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

শেখ ফজলুল হক মনি ব্যক্তি জীবনে দুই ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন। ক্ষণজন্মা এ নেতা ৩৬ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি শাহাদাৎ বরণ করেন।

মেধাবী এ নেতা কর্মজীবনে সাংবাদিকতাও করেছেন। তিনি দৈনিক বাংলার বানী,বাংলাদেশ টাইম্স ও সাপ্তাহিক সিনেমার সম্পাদক ছিলেন। ‘অবাঞ্ছিতা’নামে একটি উপন্যাসও লিখেছিলেন তিনি।

তার জ্যেষ্ঠ ছেলে অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ গত ২৩ নভেম্বর যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য। শেখ ফজলে নূর একই আসন থেকে টানা তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী যুবলীগে এ পর্যন্ত সাতটি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। এতে শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যান ও এ্যডভোকেট সৈয়দ আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে (২য়) চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু ও সাধারণ সম্পাদক ফকির আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৮৬ সালে (৩য়) চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসিন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ফুলু সরকার, ১৯৯৬ সালে (৪র্থ) চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল হোসেন, ২০০৯ সালে (৫ম) চেয়ারম্যান এ্যডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, ২০১২ সালে (৬ষ্ঠ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালিন করেন। সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর শনিবার ৭ম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ ফজলে শামস পরশ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল নির্বাচিত হয়েছেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com


Developed by: EASTERN IT