01/25/2026 ট্রাম্পের শুল্ক অনিশ্চয়তায় ভারত-ইইউর মাদার অব অল ডিল: মুক্ত বাণিজ্যে নতুন যুগের সূচনা
Special Correspondent
২৪ January ২০২৬ ২৩:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বিশ্ব রাজনীতিতে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ সময় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এগিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে। এই চুক্তিকে উভয় পক্ষই অভিহিত করছে মাদার অব অল ডিল হিসেবে। আগামী সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন ভারতের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আনুষ্ঠানিকতা ও কূটনৈতিক সৌজন্যের বাইরে তাদের আলোচনার মূল বিষয় হবে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করা।
কেন এখন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ:
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যিক সম্পর্ক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও শুল্কনীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ইউরোপকে নতুন বাণিজ্য অংশীদার খুঁজতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে অচলাবস্থা নতুন বছরে গড়িয়েছে। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক চিয়েতিগজ বাজপির মতে, এই চুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত বৈচিত্র্যময় পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক খেয়ালখুশির ওপর নির্ভরশীল নয়।
দুই দশকের আলোচনা, এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে:
প্রায় ২০ বছর ধরে দরকষাকষির পর এখন এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২৭ জানুয়ারির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। এটি হবে গত চার বছরে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি—যার আগে যুক্তরাজ্য, ওমান, নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে দিল্লি। অন্যদিকে ইইউ সম্প্রতি মারকোসুর ব্লক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
অর্থনৈতিক লাভ কী?
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ভারত বছরে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানি করে ইউরোপে এবং আমদানি করে ৬১ বিলিয়ন ডলার, ফলে ভারতের রয়েছে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। চুক্তি হলে— ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমবে, গার্মেন্টস, ওষুধ, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম ও যন্ত্রপাতি রপ্তানি বাড়বে। অন্যদিকে ইউরোপ ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার পাবে, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটির বেশি। তবে চুক্তির পথে কিছু বাধাও রয়েছে।
ইউরোপের উদ্বেগ: মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, ডেটা সুরক্ষা, পেটেন্ট আইন কঠোর করা।
ভারতের আপত্তি: ইউরোপের নতুন কার্বন ট্যাক্স (CBAM), যা ভারতীয় রপ্তানিতে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বাড়তি ব্যয় ও জটিলতা বিশেষজ্ঞরা বলছেন চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করবে এই বিষয়গুলোর সমাধানের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির রাজনৈতিক গুরুত্ব অর্থনৈতিক দিকের চেয়েও কম নয়। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক অ্যালেক্স ক্যাপ্রি বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে এবং সরবরাহ চেইনের রাজনীতিকরণ থেকে মুক্তির পথ খুলে দেবে।
ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু একটি অর্থনৈতিক চুক্তি নয় বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্যের প্রতীক। যদি সব জটিলতা কাটিয়ে এটি বাস্তবায়িত হয় তাহলে দুই পক্ষের জন্যই এটি হবে একটি ঐতিহাসিক জয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র