05/04/2026 “রাডারের বাইরে ইবলিস” – একটি রূপক ছোট গল্প
Dr Mahbub
৩ May ২০২৬ ২৩:০৯
“রাডারের বাইরে ইবলিস” একটি তীব্র রূপক-ব্যঙ্গ গল্প, যেখানে দেখানো হয়েছে মানুষের ভণ্ডামি, লোভ, ধর্মের অপব্যবহার, সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক পতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইবলিসও বিস্মিত। গল্পটি আমাদের সমাজকে আয়নার সামনে দাঁড় করায়। রাডারে ধরা পড়ছে না ইবলিস, কারণ সে লুকিয়ে নেই, বরং মানুষের মাঝেই মিশে আছে। “রাডারের বাইরে ইবলিস” গল্পটি সামাজিক ভণ্ডামি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ধর্মীয় মুখোশ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ।
“রাডারের বাইরে ইবলিস” মূলত একটি রূপকধর্মী ব্যঙ্গগল্প। এখানে ইবলিসকে কেবল ধর্মীয় চরিত্র হিসেবে নয়, বরং মানুষের অন্তর্গত অন্ধকার, লোভ, হিংসা, প্রতারণা, ভণ্ডামি ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গল্পের সূচনা হয় এক অদ্ভুত ঘটনায়: স্বর্গীয় রাডারে ইবলিসের কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না। এই অনুপস্থিতি থেকেই জন্ম নেয় প্রশ্ন, সন্দেহ ও অনুসন্ধান। গল্পটি ধীরে ধীরে উন্মোচন করে যে, ইবলিস কোথাও হারিয়ে যায়নি; বরং সে মানুষের সমাজে এসে এমন এক বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করছে, যেখানে মানুষ নিজের স্বার্থে, ধর্মের নামে, উন্নয়নের নামে, ন্যায়ের নামে এবং সভ্যতার নামে এমন সব কাজ করছে, যা ইবলিসের পুরোনো কৌশলকেও সেকেলে করে দেয়। এখানে ইবলিস প্ররোচক নয়, বরং বিস্মিত দর্শক। সে দেখছে, মানুষই এখন মানুষকে টেনে নামানোর, প্রতারণার, বিবেকহীনতার এবং আত্মবিনাশের সবচেয়ে বড় কারিগর। সমকালীন সমাজবাস্তবতার নানা সংকট, যেমন ধর্মের অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সামাজিক কপটতা, লোভ ও দুর্নীতি, পরিবেশ ধ্বংস, সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ এবং একে অপরকে পা টেনে ধরার সংস্কৃতি, এই গল্পের পটভূমিকে গভীর করেছে। ফলে গল্পটি শুধু কল্পনা নয়; এটি একধরনের সামাজিক আয়না, যেখানে পাঠক নিজের সময়, সমাজ ও চারপাশকে নতুন করে দেখতে বাধ্য হন। ব্যঙ্গ, শ্লেষ ও প্রতীকের মাধ্যমে গল্পটি শেষ পর্যন্ত একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে: ইবলিস কি সত্যিই বাইরে কোথাও আছে, নাকি আমরা নিজেরাই তাকে ধারণ করছি?
বছর দেড়েক আগের কথা। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ নজরদারি ইউনিট ইবলিসের কোনো ট্রেস পাচ্ছিল না। আসমানি রাডার থেকে সে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেছে।
রাডারে ইবলিস অদৃশ্য হওয়ার মানে কী? সে কি বড় কোনো অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি স্রষ্টার ব্যবস্থারই কোনো লুপহোল খুঁজে পেয়েছে?
অনেক খুঁজেও যখন কোনো সন্ধান মিলল না, তখন ইবলিসের ওপর নজরদারির দায়িত্বে থাকা স্বর্গীয় দূত সৃষ্টিকর্তার দরবারে হাজির হলেন। ব্যর্থতা ও হতাশা নিয়ে তিনি ফরিয়াদ করলেন, “হে অধিপতি, ভয়াবহ ব্যাপার ঘটেছে। ইবলিস নিখোঁজ। আমাদের রাডার তাকে ধরতে পারছে না।”
কথাটি শুনে সৃষ্টিকর্তা মৃদু হাসলেন। তারপর বললেন, “চিন্তা কোরো না। ইবলিস এখন অবকাশে আছে, তার প্রিয় মানুষদের সঙ্গে।”
সেই স্বর্গীয় দূত কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে রইলেন। তারপর বিনয়ের সঙ্গে শুধালেন, “হে প্রভু, তবে কি ইবলিস এখন আর মানুষকে পথভ্রষ্ট করে না? সে কি কেবলই এক মনোযোগী ছাত্র হয়ে গেছে?”
সৃষ্টিকর্তা আবার হাসলেন। বললেন, “ছাত্র নয়, সে এখন সেখানে পরামর্শক। তবে মজার ব্যাপার হলো, সেখানকার মানুষগুলো তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইবলিস আগে মানুষকে অপরাধে প্ররোচিত করত। আর এখন সে ওই ভূখণ্ডে বসে ডায়েরি লেখে, কীভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে অধর্মকে জায়েজ করা যায়, কীভাবে শান্তির বুলি আওড়ে অশান্তির দাবানল জ্বালানো যায়। সে অবাক হয়ে দেখে, যা সে হাজার বছরেও ভাবেনি, ওই ভূখণ্ডের ধর্মব্যবসায়ী আর নেতারা তা নিমেষেই করে ফেলছে।”
স্বর্গীয় দূত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “তাহলে কি ইবলিস আর ফিরবে না?”
সৃষ্টিকর্তা বললেন, “ফিরবে। তবে নতুন এক ডিগ্রি নিয়ে। ইবলিস বুঝে গেছে, মানুষকে নরকে নেওয়ার জন্য তার আর বেশি পরিশ্রমের দরকার নেই। ওই ভূখণ্ডের মানুষরাই যথেষ্ট। তারা একে অপরকে টেনে নরকের দ্বারে পৌঁছে দিতে পারদর্শী। ইবলিস এখন কেবল বসে তাদের কাবাডি খেলা দেখছে আর ভাবছে, আহা, আমি কেন আগে মানুষের রূপ ধরিনি!”
সৃষ্টিকর্তার কথা শুনে স্বর্গীয় দূত কিছুটা লজ্জিত হলেন। তিনি আমলনামার খাতা খুলে বললেন, “জাহাপনা, আমি তো কেবল ইবলিসের প্ররোচনাগুলো নথিবদ্ধ করতাম। কিন্তু ওই বঙ্গভূখণ্ডের খাতা খুলে দেখি, বিস্ময়ে ভরা। সেখানে সত্য আর মিথ্যার এমন সংমিশ্রণ যে, স্বর্গীয় দূতরাও দ্বিধায় পড়ে যায় কোনটা পুণ্য আর কোনটা পাপ।”
সৃষ্টিকর্তা গম্ভীর স্বরে বললেন, “সেখানে ইবলিস আর প্ররোচনা দেয় না। সে এখন বিমুগ্ধ দর্শক। সে দেখছে, মানুষ যখন অন্যকে ঠকায়, সেটাকে বলে চালাকি। খাদ্যে বিষ মেশালে বলে ব্যবসা। অন্যের হক মেরে খেলে বলে তদবির। আর ধর্মের লেবাস পরে অধর্মের জয়গান গাওয়াকেই সেখানে পরম পাণ্ডিত্য মনে করা হয়।”
স্বর্গীয় দূত অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে মহান সৃষ্টিকর্তা, তবে কি সেখানে ইবলিসের আর কোনো প্রয়োজন নেই?”
সৃষ্টিকর্তা উত্তর দিলেন, “প্রয়োজন আছে বৈকি। ইবলিস সেখানে গেছে নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাঁচাতে। সে ভয় পেয়েছে, মানুষ পাছে তাকে তার সিংহাসন থেকেই সরিয়ে দেয়। সে দেখছে, সেখানকার মানুষ তাকে ছাড়াই একে অপরের পেছনে এমনভাবে লেগে আছে, যা সে নিজেও কোনোদিন কল্পনা করেনি। যারা নিজের দেশের গাছ কাটে, নদী মারে, ভাইয়ের রক্তে হোলি খেলে শান্তির ব্যানার উঁচিয়ে ধরে, তাদের দেখে ইবলিসও এখন ইস্তফা দেওয়ার কথা ভাবছে।”
স্বর্গীয় দূত কাঁপা কণ্ঠে বললেন, “তাহলে তাদের শেষ পরিণতি কী?”
সৃষ্টিকর্তা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর বললেন, “ইবলিস তার ডায়েরিতে লিখছে, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের ধ্বংসের কারিগর, সেখানে শয়তানের প্ররোচনা কেবল সময়ের অপচয়। যে জাতি কাবাডির মতো একে অপরকে টেনে নিচে নামানোকে জাতীয় স্বভাব বানিয়ে ফেলে, তাদের পতনের জন্য আলাদা কোনো ইবলিস লাগে না। তাদের অহংকার আর বিবেকহীনতাই যথেষ্ট।”
স্বর্গীয় দূত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, ইবলিস নিখোঁজ হয়নি। সে আসলে মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে মানুষের পরাজয় দেখে মুচকি হাসছে।
তবু স্বর্গীয় দূতর মনে প্রশ্ন রয়ে গেল। তিনি দুরুদুরু বুকে আরজ করলেন, “হে দয়াময়, তবে কি ওই ভূখণ্ডের মানুষেরা আপনার রহমত থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত? ইবলিস যদি সেখানে গিয়ে নতুন গুণ শেখে, তবে সাধারণ মানুষের বাঁচার উপায় কী?”
সৃষ্টিকর্তা মেঘগম্ভীর স্বরে বললেন, “সেখানে এক অদ্ভুত খেলা চলে। মানুষ অন্যায় করে, তারপর দোষ চাপায় ইবলিসের ওপর। কিন্তু ইবলিস নিজের ডায়েরিতে লিখে রেখেছে, সেদিন সে কেবল পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। মানুষটি নিজের লোভেই পাপে ডুবে গেছে। সেখানে শিক্ষক ছাত্রের মেধা চুরিতে ব্যস্ত, বিচারক ন্যায়ের পাল্লায় স্বার্থের ওজন মাপছে, আর সাধারণ মানুষ ভালো মানুষ সাজার প্রতিযোগিতায় মগ্ন। অথচ আড়ালে তারা একে অপরের গীবত, হিংসা আর বিদ্বেষে ডুবে আছে।”
স্বর্গীয় দূত বললেন, “জাহাপনা, ইবলিস কি তবে সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাবে?”
সৃষ্টিকর্তা জবাব দিলেন, “ইবলিস এখন বড় সংকটে আছে। সে দেখেছে, সেখানকার মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য স্রষ্টাকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। যে ধর্মের বক্তা মঞ্চে শান্তির কথা বলে, সে-ই ঘরে ফিরে অন্যের জমি দখলের ফন্দি আঁটে। যে সমাজসেবার নামে নাম কুড়ায়, সে আসলে মানুষের হাহাকারকে প্রচারের পণ্য বানায়। ইবলিস হতাশ হয়ে ভাবে, সে যে অবাধ্যতার জন্য স্বর্গচ্যুত হয়েছিল, এরা তো প্রতিদিন তার চেয়েও বড় অবাধ্যতা করে ধার্মিক সেজে ঘুরে বেড়ায়।”
স্বর্গীয় দূত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “প্রভু, তবে কি এই জাতির কোনো পরিবর্তন নেই?”
সৃষ্টিকর্তা মৃদু হেসে বললেন, “পরিবর্তন আছে। তবে তা তখনই সম্ভব, যখন তারা অন্যের পা টেনে ধরা ছেড়ে নিজের বিবেককে জাগ্রত করবে। ইবলিস সেখান থেকে ফিরলে হয়তো তার দপ্তরে একটি নতুন নীতি ঝুলিয়ে দেবে: মানুষের লোভের কাছে শয়তানিও ম্লান। এই ভূখণ্ডের মানুষ যেদিন বুঝবে, কাবাডির মতো পা টেনে ধরায় নয়, বরং হাত ধরে টেনে তোলায় মানুষের সার্থকতা, সেদিন ইবলিস আবার রাডারে ধরা পড়বে। কারণ তখন তার সেখানে আর কোনো কাজ থাকবে না।”
স্বর্গীয় দূত নথিপত্র গুছিয়ে নিলেন। তিনি বুঝলেন, ইবলিস অবকাশে নেই। সে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে মানুষের ছদ্মবেশী শয়তানি পর্যবেক্ষণ করছে। আর বঙ্গভূখণ্ডে প্রতিদিন ইবলিসের চেয়েও ভয়ংকর সব মানুষ-ইবলিস জন্ম নিচ্ছে। তারা ধর্মের বুলি আওড়ায় ঠিকই, কিন্তু অন্তরে পুষে রাখে ঘোর অন্ধকার।
স্বর্গীয় দূত কাঁপা গলায় বললেন, “প্রভু, আমি এখন কী লিখব? আমলনামার পাতায় তো মানুষের পাপের চেয়ে ভণ্ডামির কালি বেশি ঘন হয়ে উঠছে।”
সৃষ্টিকর্তা শান্ত স্বরে বললেন, “লিখে রাখো, ইবলিস এখন আতঙ্কে আছে। সে দেখছে, তার পুরোনো সব কৌশল এই ভূখণ্ডে এসে সেকেলে হয়ে গেছে। সে আগে মানুষকে মিথ্যা বলতে শেখাত। এখন সে অবাক হয়ে দেখে, মানুষ কী পরম যত্নে মিথ্যাকেই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে উৎসব পালন করে। সে দেখেছে, সেখানকার বুদ্ধিমানরা কলম বিক্রি করে প্রাসাদ গড়ে, আর মূর্খরা ধর্মের ঝাণ্ডা নিয়ে মানুষের রক্ত ঝরায়। ইবলিস বিড়বিড় করে বলে, আমি তো কেবল সিজদা করতে অস্বীকার করেছিলাম; এরা তো প্রতিদিন স্রষ্টার সৃষ্টির মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে নিজেদেরই ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছে।”
স্বর্গীয় দূত অবাক হয়ে শুধালেন, “ইবলিস কি তবে মানুষের কাছে হেরে যাচ্ছে?”
সৃষ্টিকর্তা বললেন, “হেরে যাওয়া নয়। সে স্তম্ভিত। সে দেখছে, কেউ ভালো কাজ করতে চাইলে একশো জন তাকে থামাতে ধর্মের দোহাই দেয়। কেউ জ্ঞান অর্জন করতে চাইলে তাকে কুসংস্কারের শেকলে বাঁধা হয়। ইবলিস তার ডায়েরির শেষ পাতায় লিখেছে, যে দেশে বিবেককে বন্ধক রেখে স্বার্থকে পূজা করা হয়, সেখানে শয়তানের আলাদা কোনো অস্তিত্বের প্রয়োজন নেই; সেখানকার প্রতিটি মানুষই একেকজন স্বয়ংসম্পূর্ণ ইবলিস।”
ঠিক তখনই আসমানি রাডারে একটি লাল বিন্দু ফুটে উঠল।
স্বর্গীয় দূত উল্লসিত হয়ে বললেন, “জাহাপনা! ইবলিসের ট্রেস পাওয়া গেছে! সে ওই ভূখণ্ড ছেড়ে যাচ্ছে!”
সৃষ্টিকর্তা ম্লান হাসলেন। বললেন, “সে যাচ্ছে না। সে প্রাণভয়ে পালাচ্ছে। সে বুঝে গেছে, ওই ভূখণ্ডের মানুষরূপী ইবলিসদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। সে এখন নিজের পুরোনো নরকেই বেশি নিরাপদ মনে করছে।”
স্বর্গের দরবারে থমথমে নীরবতা নেমে এল।
দূর থেকে দেখা গেল, বঙ্গভূখণ্ডে তখনো শান্তির ওয়াজ চলছে। মঞ্চে মমতার কথা, আড়ালে প্রতিহিংসার হিসাব। মুখে ভ্রাতৃত্ব, হাতে ছুরি। কেউ ইতিহাস বদলাচ্ছে, কেউ সত্যকে মুছে দিচ্ছে, কেউ ধর্মের নামে ক্ষমতার সিঁড়ি বানাচ্ছে।
ইবলিস পিছনে তাকাল। তারপর শেষবারের মতো নিজের ডায়েরিতে লিখল:
“যেখানে মানুষ নিজের ধ্বংস নিজেই সাধন করে, সেখানে শয়তানের কাজ কেবল দর্শক হয়ে থাকা।”
তারপর সে অন্ধকারের দিকে মিলিয়ে গেল।
আর আসমানি রাডারে লাল বিন্দুটি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠল। ইবলিস ফিরেছে। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক অন্ধকার সে ফেলে এসেছে মানুষের ভেতরে।
এই রূপক গল্পের মূল থিম হলো মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এবং ভণ্ডামির চরম সীমা, যা এমনকি আদি পাপের প্রতীক ইবলিশকেও হার মানায়। এখানে 'ইবলিশ' কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং মানুষের ভেতরের সেই আদিম প্রবৃত্তি—যা স্বার্থপরতা, পরশ্রীকাতরতা এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে অধর্ম করার নেশায় মত্ত। গল্পটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আধুনিক সমাজে আমরা শয়তানকে বাইরের কোনো শক্তি হিসেবে খুঁজি, অথচ আমাদের প্রতিদিনের 'পা টেনে ধরার' সংস্কৃতি, মিথ্যাচার এবং বিবেকের বিসর্জন আমাদের একেকজনকে ইবলিশের চেয়েও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। যখন স্রষ্টার রাডারে ইবলিশ অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন বোঝা যায় তার সেই পুরনো অন্ধকার এখন আমাদের চারিত্রিক মজ্জায় মিশে গেছে। এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং আমাদের সামাজিক পচনের বিরুদ্ধে এক তীব্র স্যাটায়ার বা শ্লেষাত্মক প্রতিবাদ।
অধিকারপত্র বিশেষ গল্প লেখক: Prof Dr Mahbub Litu, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র
পড়ুন, শেয়ার করুন ও মতামত জানান
#রাডারের_বাইরে_ইবলিস #রূপকগল্প #ব্যঙ্গগল্প #সামাজিক_ব্যঙ্গ #নৈতিক_অবক্ষয় #ভণ্ডামি #ইবলিস #মানুষ_ও_শয়তান #সমাজের_আয়না #ধর্মের_অপব্যবহার #সামাজিক_বাস্তবতা #সাহিত্য #বাংলা_গল্প #অধিকারপত্র #প্রতিবাদের_সাহিত্য