05/07/2026 রাজ্যপালের সঙ্গে থালাপতি বিজয়, সরকার গঠনে নতুন সমীকরণ
odhikarpatra
৭ May ২০২৬ ০০:০২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠন ঘিরে গত ৪৮ ঘণ্টায় নাটকীয় মোড় নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অভিনেতা ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়-এর দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে) একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সরকার গঠনের দাবি জানাতে ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজভবনে যান বিজয়। তবে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার জানান, সরকার গঠনের জন্য এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। তিনি অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে এখনো ১০টি আসনের ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাকে।
বিজয়ের পক্ষে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক সমর্থন দেবেন বলে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে আরও সময় চেয়েছেন তিনি।
কংগ্রেস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বিজয়কে সমর্থন দিলেও জোটে কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’কে রাখা যাবে না, যারা সংবিধানে বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাঝাগম-এর প্রতি ইঙ্গিত।
এদিকে কংগ্রেসের এই অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিএমকে নেত্রী কনিমোঝি বলেন, এটি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ডিএমকের ওপর নির্ভর করে শক্তিশালী হলেও এখন সেই দলকেই চ্যালেঞ্জ করছে।
পাল্টা জবাবে কংগ্রেস নেতা কার্তি চিদাম্বরম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী জোট রাজনীতির বাস্তবতা ডিএমকে বুঝতে পারছে না।
অন্যদিকে বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে থাকা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাঝাগম-এর ভেতরেও বিজয়কে সমর্থনের চাপ বাড়ছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বাইরে থেকে সমর্থনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
জানা গেছে, কংগ্রেস এখন ডিএমকের শরিক দলগুলো—সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং আইইউএমএল—এর সমর্থনও বিজয়ের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ভিসিকে এ বিষয়ে বৈঠক ডেকেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ বা ৮ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিজয়। অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।