05/16/2026 ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ, উঠছে বিচার বহির্ভূত হত্যার অভিযোগ
odhikarpatra
১৫ May ২০২৬ ২৩:৫৯
ওয়াশিংটন, ১৫ মে ২০২৬ : ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের সন্দেহে পরিচালিত মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পাঁচ মাসব্যাপী অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে Latin American Center for Investigative Journalism বা ক্লিপ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে তাঁদের অনেকের পরিচয় আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
Donald Trump প্রশাসন এসব হামলাকে ‘মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মাদক পাচারকারী নৌযান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে ক্লিপের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিহতদের অধিকাংশই লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। তাঁদের কেউ ছিলেন গাড়িচালক, কেউ মৎস্যজীবী, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনকাজে যুক্ত হয়েছিলেন।
ক্লিপের পরিচালক মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু বাস্তবে দরিদ্র ও অনিশ্চিত জীবনে থাকা তরুণরাই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাবলো এসকোবার বা এল চাপোকে হত্যা করছে না। বরং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে।”
অনুসন্ধানে অংশ নেয় যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনজিও Airwars, কলম্বিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সাংবাদিকেরা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের মধ্যে আটজন ভেনেজুয়েলার, তিনজন কলম্বিয়ার, দুজন ত্রিনিদাদের এবং একজন করে ইকুয়েডর ও সেন্ট লুসিয়ার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই জীবিকার সন্ধানে সীমান্তপথে যাতায়াত করছিলেন।
এক ঘটনায় ভেনেজুয়েলার গাড়িচালক হুয়ান কার্লোস ফুয়েন্তেস ও লুইস রামন আমুন্দারাইন কাজের প্রলোভনে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে যান। পরে একটি ছোট নৌকায় যাত্রার সময় হামলায় নিহত হন।
অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, কয়েকটি ঘটনায় নিহতরা ছিলেন মৎস্যজীবী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর United States Southern Command দাবি করেছে, সব হামলাই ছিল “পরিকল্পিত, আইনসম্মত ও নির্ভুল” এবং তা “মাদক-সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের” লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে International Crisis Group-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন বলেন, এসব হামলা মূলত রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, দেশ ও জাতিসংঘ এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে তা সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
#যুক্তরাষ্ট্র #ক্যারিবীয় #মাদকবিরোধী_অভিযান #ভেনেজুয়েলা #মানবাধিকার