10/05/2026 শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
৫ October ২০২৬ ২০:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ কিংবা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যেই শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে সরকার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।
তিনি দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ রোল মডেল। তাই শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এ কারণে ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা এ বছরের মধ্যেই নতুন বই হাতে পাবে।
শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর না করে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রতি উৎসাহিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলে তারা নিজেরাই জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং শিক্ষকের শক্তি হিসেবে ব্যবহারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পেতে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের বেতন বা অবসরভাতার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না; যথাসময়ে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন হলেও কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনও শিক্ষার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মান—এসব মূল্যবোধকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।
প্রতিবছর ৫ অক্টোবর শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
মেধাবীদের প্রথম পছন্দ হবে শিক্ষকতা, বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
#তারেকরহমান #প্রধানমন্ত্রী #শিক্ষকতা #বিশ্বশিক্ষকদিবস #গুণীশিক্ষক #শিক্ষাখাত #শিক্ষকনিয়োগ #শিক্ষাব্যবস্থা #অধিকারপত্র