মুন্সীগঞ্জে তিন ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষের ভরসা একটি  বাঁশের সাঁকো। 


Published: 2021-09-26 15:25:48 BdST, Updated: 2021-12-09 04:32:06 BdST

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ৩ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের ভরসা শেখরনগর ইউনিয়নের ফইনপুর গ্রামের ইছামতি নদীর উপর একটি বাঁশের সাঁকো । দীর্ঘ অনেক বছর ধরে পাকা সেতুর অভাবে ওই সাঁকো দিয়ে দুর্ভোগ নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে মানুষজনের। চলাচলকারীরা বলছে আর কত বছর এরকম দুর্ভোগ নিয়ে চলতে হবে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নয়নের ছোয়া পেলেও শেখরনগর ইউনিয়নে পায়নি। উপজেলা প্রশাসন এই সাঁকোর বিষয় কোনো ভাবেই নজর দিচ্ছে না। এর ফলে দুর্ভোগ নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে এই স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।

গতকাল রবিবার বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ইছামতি নদীর উপর বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘ অনেক বছর ধরে তৈরী করে আসছে গ্রামবাসী। আর এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ। পাকা সেতুর অভাবে গ্রামবাসীর নিজেদের অর্থে সাঁকো তৈরী করে যাচ্ছে। এই সাঁকোটি এখন পুরনো হওয়ায় বিভিন্ন অংশে ভেঙে গেছে। এতে জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে মানুষজন। উপজেলার শেখরনগর, রাজানগর ও চিত্রকোট এই ৩টি ইউনিয়নের তুলশীখালী, কামারকান্দা, মরিচা, কালশুর, ফনইপুর, বরাম, ঘনশ্যামপুর,আলমপুর, ফুলহার, বাঐখোলা, সৈয়দপুর, মধুপুর, নয়ানগর, রাজানগর, তেঘুরিয়া, কালিপুর, কমলপুরসহ প্রায় ১৫ টি গ্রাম এবং জেলার শ্রীনগর উপজেলার মানুষজন প্রতিদিন হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে, স্কুল-কলেজে ও রাজধানী ঢাকা সহ যাতায়াত করে থাকে এ সাঁকোর উপর দিয়ে। এছাড়া ফইনপুরে সেতু নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের মানুষ ঢাকার সাভার হেমায়েতপুর হয়ে দক্ষিবঙ্গের ২১ জেলার সাথে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সংযুক্ত হবে খুব সহজেই।

জানা যায়, ১টি কলেজ, ২টি মাধ্যমিক,২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টা কমিউনিটি ক্লিনিকসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পারাপার হতে হয়। বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি সত্বেও এ সাঁকো দিয়ে পারাপারের একমাত্র ভরসা।

শেখরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন,আমাদের প্রতিদিন এই ভাঙ্গা সাকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় ভেঙে যায় এবং অনেক সময় বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষ সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে যায়। এতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই তিনি তাঁর বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করে দেয় এটাই আমাদের প্রাণের দাবী।

ফইনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো.ইব্রাহিম বলেন, অনেক বছর ধরেই সাংবাদিকরা লেখালেখি করছে এবং আমরাও অনেক বছর ধরে অনেক জায়গায় এই বিষয় আলাপ-আলোচনা করছি। কিন্তু কোন ভাবেই এই স্থানটিতে একটি সেতু নির্মাণ করছে না কর্তৃপক্ষ বা সরকার। এতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। সরকার সব এলাকায় উন্নয়ন করল কিন্তু আমাদের এই এলাকার মানুষ এখন পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই আমাদের দিকে নজর দিয়ে এই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ করে দিলে আমরা সহজ ভাবে সহজ উপায়ে চলাচল করতে পারি এবং ঢাকা অতি সহজেই যেতে পারি। সে জন্য আমরা ফইনপুর গ্রামে সেতু নির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।

শেখরনগর ইউপির চেয়ারম্যান মো.নজরুল ইসলাম বলেন, একটি সেতুর অভাবে গ্রামের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েসহ হাজারো মানুষকে প্রতিদিন কষ্ট করে সাঁকো পার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় মাঝে মাঝেই বাচ্চারা পানিতে পড়ে যায়। এতে বাচ্চারা মৃত্যু ঝুকিতে থাকে। তাই অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে থাকে । এছাড়া এ সাঁকোর কারণে শত বিপদেও গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না, ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল কলেজে ঠিকমত যেতে পারেনা, বয়স্ক মানুষজন যাতায়াত করতে পারছেনা, লাশ দাফনে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক পরিবারের পুরুষরা দেশের বাহিরে চাকুরী করে বিধায় মহিলাদের বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে অনেক অসুবিধার শিকাড় হতে হয় । তাই একটি সেতু নির্মান হলে এলাকাবাসীর কষ্ট অনেকটাই লাগব হবে ।

উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন, উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের ফৈনপুর গ্রামে অনেক বছর ধরে সাঁকো দিয়ে মানুষজন দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে। সে কারণে আমরা এলজিইডি অফিসে একটি সেতুর জন্য আবেদন করেছি। এই স্থানে ১০০ মিটারের বেশি বড় সেতু নির্মাণ করতে হবে। সেজন্য আমাদের অনেক নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। যদি অনুমোদন হয় তারপর আমরা বলতে পারব এখানে সেতু কবে হবে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত বলতে পারছিনা এখানে কবে সেতু হবে। তবে মানুষের দুর্ভোগ অনেক হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সদস্য মাহি বি. চৌধুরী বলেন, ফৈনপুরের এই ব্রিজটির বিষয়ে আমি জানি এবং এই ব্রিজটির জন্য আমরা বিশেষ বরাদ্দে তালিকাভুক্ত করেছি। সমস্যা হচ্ছে এইটা ১০০ মিটার উপরের ব্রিজ। সেটার নতুন নিয়ম অনুযায়ী নৌ-মন্ত্রণালয়ের একটি বিষেষ অনুমোদন নিতে প্রয়োজন হয়। যাতে নির্বিঘ্নে নৌযানগুলো চলাচল করতে পারে। আমরা বিশেষ বরাদ্দ দিলও আটকে যেতে পারে এমন একটা ভয় আছে। এই ব্রিজটি ১০০ মিটারের বেশি বড় সেই জন্য। আর যাদি আটকে গেলও আমরা নৌ-মন্ত্রণালয়ের সাথে আলাপ-আলোচনা করে কি ভাবে অনুমোদন নেওয়া যায় সে কাজ করবো। এটার জন্য যে আর্থিক বরাদ্দ সে আর্থিক বরাদ্দ থেকে ইতিমধ্যেই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের তালিকায় রেখেছি সুতরাং এ ব্রিজ ইনশাইল্লাহ আমরা করবো। তবে এটা অন্যান্য ছোটখাটো কাজের মতো সহজ হবে না। সে জন্য আমাদের নৌমন্ত্রনালয় একটি অনুমোদন লাগবে। এই অনুমোদনটা সময় মত পেতে পারি তাহলে এটার জন্য যে আর্থিক বরাদ্দর বিষয়। সেটা ইতিমধ্যে আমাদের মাথায় রয়েছে। এটা নিয়ে কাজ করছি, আমি আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই এই ব্রিজ নির্মাণের শেষ করতে পারবো বলে আমি আশা করছি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com


Developed by: EASTERN IT