আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করেছে করোনার কারণে


Published: 2020-03-23 19:05:34 BdST, Updated: 2020-05-29 10:34:28 BdST

 

 

ঢাকা, ২৩ মার্চ, ২০২০  : করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করেছে আওয়ামী লীগ।
আগামী ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ সোমবার দেয়া এক বিবৃতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে সারাবিশ^ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করেছে আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগ সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিহাসের সত্যকে উর্দ্ধে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত হত্যাযজ্ঞের দিন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি। ২৫শে মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিং¯্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫শে মার্চ কালো রাতে শুরু হওয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ধরে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত মহান স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার সেই নৃশংস ঘটনার স্মরণে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে ২৫শে মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে একসময় গণহত্যার এই বিষয়টি চাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর এই অপরাজনীতিতে জড়িত ছিল সামরিক-বেসামরিক আমলা, তাদের প্রতিনিধি স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ও তার পাকিস্তানি দোসররা। গণহত্যার বিষয়টিকে তারা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। এর উদ্দেশ্যে ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি অবলেপন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়।
২৫শে মার্চ কালো রাত্রিতে নিহত সকল শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ^মানবতার এক ক্রান্তিলগ্নে আমাদের জাতীয় জীবনে ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সমাগত। বৈশি^ক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতোমধ্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’-এর কর্মসূচি পুর্নবিন্যাস করা হয়েছে এবং ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিহার করা হয়েছে।
কাদের বলেন, দেশবাসীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে আওয়ামী লীগও সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য তথা দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে ভয়াবহ এই বৈশি^ক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার। দেশবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা, সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনই পারে ভয়াবহ এই সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশ তথা বিশ^মানবতার এই ক্রান্তিলগ্নে সকলকে ধৈর্য্য, সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com

সম্পাদক: মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ

যোগাযোগ: গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, রুম নং-১০০, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭৪০-৫৯৯৯৮৮. E-mail: odhikarpatra@gmail.com


Developed by: EASTERN IT