01/01/2026 জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জনস্রোত, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জিয়া উদ্যান
odhikarpatra
১ January ২০২৬ ১৫:৩১
প্রতিবেদন: বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসতে শুরু করেন। এর আগে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ বন্ধ ছিল। তবে দুপুরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে দর্শনার্থীদের ঢল নামে।
সকালে উদ্যান বন্ধ থাকায় অনেকেই বিজয় স্মরণি মোড়ে স্থাপিত ব্যারিকেডের সামনে অপেক্ষা করেন। সমাধিস্থলে প্রবেশ করতে না পেরে অনেকে সড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এদিন সকালে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাবর বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তার প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। র্যাবকে কোনো দিন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি—এমন অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অন্যায় করলে বিএনপির নেতাকর্মীরাও ছাড় পেত না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।”
নিরাপত্তা নিশ্চিতে জিয়া উদ্যানে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল পৌনে ৫টায় জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণজনিত জটিলতা, নিউমোনিয়া, কিডনি ও লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।