01/01/2026 শিরোনাম: ইয়েমেন সীমান্তে সংঘাত: সৌদি-আরব ও আমিরাতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে কি ফাটল ধরছে?
odhikarpatra
১ January ২০২৬ ১৮:৪৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অধিকারপত্র | দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইয়েমেন ইস্যু নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) মধ্যে প্রকাশ্য সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মুকাল্লায় হামলা:
সৌদি আরবের অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দর থেকে দুটি জাহাজ মুকাল্লা বন্দরে এসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক যান খালাস করেছে। এই অস্ত্রগুলো মূলত আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (STC)-এর জন্য পাঠানো হয়েছিল। সৌদি আরবের দাবি, এই ঘটনা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এরই প্রেক্ষিতে সৌদি বিমান বাহিনী মুকাল্লা বন্দরে ‘সীমিত অভিযান’ চালিয়ে সেই অস্ত্রগুলো ধ্বংস করে দেয়।
আমিরাতের অবস্থান ও সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা:
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওই চালানে কোনো অস্ত্র ছিল না, বরং সেগুলো আমিরাতি বাহিনীর নিজস্ব ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে উত্তেজনা প্রশমনে আবুধাবি ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সমস্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট’ বা সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালেই আমিরাত তাদের মূল বাহিনী সরিয়ে নিলেও প্রক্সি বা মিত্র বাহিনীর মাধ্যমে সেখানে শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছিল।
আঞ্চলিক প্রভাব ও ভূ-রাজনীতি:
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত শুধুমাত্র একটি বন্দরের দখল নিয়ে নয়, বরং এর মূলে রয়েছে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে আমিরাতের কঠোর অবস্থান।
* ইয়েমেন: আমিরাত STC-কে সমর্থন দিচ্ছে যাতে সেখানে ‘ইসলাহ পার্টি’ (যাদেরকে তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা মনে করে) প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
* মিশর: ২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারের পতনের পর থেকে আমিরাত প্রেসিডেন্ট আল-সিসির সবচেয়ে বড় আর্থিক সমর্থক। তারা মিশরকে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধান প্রাচীর মনে করে।
* সুদান ও লিবিয়া: এসব দেশেও আমিরাত ও সৌদি আরবের স্বার্থের সংঘাত মাঝেমধ্যেই সামনে আসছে।
ভবিষ্যৎ কী?
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, আমিরাতের এই আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি অনেক ক্ষেত্রে সংঘাত আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, রিয়াদ চাচ্ছে তাদের দক্ষিণ সীমান্তে একটি স্থিতিশীল এবং অখণ্ডিত ইয়েমেন। ২০২৬ সালের শুরুতে এই দুই শক্তিশালী আরব দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আই-২৪ নিউজ এবং আল জাজিরা।
পরামর্শ: আপনার পোর্টালে এই সংবাদের সাথে মুকাল্লা বন্দরের ধোঁয়া উড়ার ছবি অথবা সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও আমিরাতি প্রেসিডেন্টের ছবি ব্যবহার করলে খবরটি পাঠকদের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও আকর্ষণীয় হবে।
আপনি কি এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিয়ে কোনো রিপোর্ট চাচ্ছেন?