01/02/2026 গোপন বৈঠক’ নাকি কূটনৈতিক সৌজন্য? রাজনীতির আয়নায় জামায়াত–ভারত আলোচনা
odhikarpatra
১ January ২০২৬ ২১:০৯
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত একটি সংবেদনশীল শব্দ। সেই শব্দের সঙ্গে যখন যুক্ত হয় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুল ইসলামের নাম এবং “গোপন বৈঠক”—তখন সেটি শুধু একটি সংবাদ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে ডা. শফিকুল ইসলাম নিজেই ফেসবুক পোস্টে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাজনীতিতে কূটনৈতিক সৌজন্য আর গোপন রাজনীতির সীমারেখা কোথায়?
ডা. শফিকুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—
এই বক্তব্যে তিনি একদিকে গোপনীয়তার অভিযোগ নাকচ করেছেন, অন্যদিকে দেশীয় কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংবাদে একটি পুরোনো সমস্যা রয়েছে—
👉 ঘটনার চেয়ে ব্যাখ্যা বড় হয়ে যায়।
এক্ষেত্রেও তাই দেখা গেছে। একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকে “গোপন বৈঠক” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা পাঠকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে, জামায়াত কি ভারতের সঙ্গে নীতি-সমঝোতায় যাচ্ছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
“এ ধরনের শব্দচয়ন শুধু বিভ্রান্তিই নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বার্তা তৈরি করে।”
বাস্তবতা হলো—
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত আমিরের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়, বরং এটি রাজনৈতিক স্বচ্ছতার একটি বার্তা হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
ডা. শফিকুল ইসলামের পোস্টে তিনটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে—
স্বচ্ছতা দেখানোর চেষ্টা
→ “আমাদের কোনো গোপন কিছু নেই”
ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান
→ মিডিয়াকে দায়বদ্ধ করার প্রচেষ্টা
আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা
→ জামায়াত এখন নিজেকে ‘আইসোলেটেড দল’ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা—
ডা. শফিকুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট একটি সাধারণ প্রতিবাদ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে তথ্য, কূটনীতি ও মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনীতিতে যোগাযোগ থাকবেই—প্রশ্ন হলো, তা কীভাবে এবং কোন ভাষায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।