01/07/2026 রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই অধিকাংশ গুম, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য—সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতার শীর্ষ মহল
odhikarpatra
৪ January ২০২৬ ২৩:৪৭
বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
০৪ জানুয়ারি ২০২৬
গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই কাজ করেছে—এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া।
কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১,৫৬৯টি অভিযোগকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি মামলা ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, গুমের প্রকৃত সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ভিক্টিম বা তাদের পরিবার এখনও সামনে আসেননি, কেউ আবার ভয়ের কারণে অফ-রেকর্ডেও কথা বলতে রাজি হননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুম থেকে ফিরে আসা ভিক্টিমদের মধ্যে
এখনও নিখোঁজদের মধ্যে
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি একটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম। হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ভারতে রেন্ডিশনের ঘটনাগুলো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজেই একাধিক গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের কাজকে “ঐতিহাসিক” আখ্যা দিয়ে বলেন,
“এটি নৃশংসতার পূর্ণ ডকুমেন্টেশন। গণতন্ত্রের মুখোশ পরে কীভাবে পৈশাচিকতা চালানো যায়—এই রিপোর্ট তার প্রমাণ।”
তিনি এসব রিপোর্ট সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংসতা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রতিকারের পথ খোঁজার নির্দেশ দেন।
এছাড়া বরিশালের বলেশ্বর নদী, বুড়িগঙ্গা ও মুন্সিগঞ্জে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের স্থান চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বলেশ্বর নদীতে শত শত ভিক্টিমকে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন এবং ভিক্টিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।