01/09/2026 সিংহাসনের প্রেতাত্মা, ক্ষমতার চেয়ার আর তুঘলকের ছায়া: বাংলাদেশে তুঘলকি কাণ্ডের আধুনিক পুনরুত্থান
Dr Mahbub
৭ January ২০২৬ ২৩:৩১
ইতিহাস বলে দিল্লির সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসন ১৩৩৮ সালেই শেষ হয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি তার তুঘলকি আত্মা মরে গেছে? এই ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্যিক ফিচারে অনুসন্ধান করা হয়েছে—কীভাবে মধ্যযুগের তুঘলকি কাণ্ড আজকের বাংলাদেশে আধুনিক রূপে ফিরে এসেছে। ঘোড়ার জায়গায় পাজেরো, তামা-রুপার মুদ্রার বদলে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল প্রকল্প, দিল্লি–দৌলতাবাদের বদলে অফিস–অফিস ঘোরানো—সব মিলিয়ে ক্ষমতার খামখেয়ালিপনার এক জীবন্ত কাব্য। সরকারি দপ্তর, আমলাতন্ত্র, উন্নয়ন প্রকল্প ও ‘ব্রিজ আছে রাস্তা নাই’ সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে এই রচনাটি দেখায়—তুঘলক কোনো ইতিহাস নয়, বরং একটি চলমান মানসিকতা। ইতিহাস, ব্যঙ্গ ও সমসাময়িক বাস্তবতার মিশেলে লেখা এই ফিচারটি ক্ষমতার আত্মার বিরুদ্ধে এক তীক্ষ্ণ সাহিত্যিক প্রতিবাদ।
ইতিহাস মৃত মানুষের কঙ্কাল নিয়ে নাড়াচাড়া করে, কিন্তু 'তুঘলকি কাণ্ড' এমন এক জীবন্ত জীবাণু যা শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে মিউটেশন ঘটিয়ে টিকে থাকে। ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনের অবসান ঘটেছিল সত্য, কিন্তু তার আত্মাটি কি সত্যিই পরপারে শান্তি পেয়েছে? উত্তরটা পেতে আপনাকে দিল্লির লাল কেল্লায় যেতে হবে না, বরং বর্তমান বাংলাদেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের বারান্দায় দাঁড়ালেই হবে। সেখানে এসির বাতাসে ভেসে আসা ফাইলের ঘ্রাণে আপনি অনুভব করবেন—সুলতান আজও আছেন। তিনি এখন আর ঘোড়ায় চড়েন না, চড়েন পাজেরো জিপে; তিনি এখন আর তামা-রুপার মুদ্রা টোকেন করেন না, বরং ডিজিটাল মুদ্রার অদ্ভুত সব মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষকে দিল্লী থেকে দৌলতাবাদ দৌড় করান।
দিল্লীর তুঘলকি কান্ডের কালোছায়ায় বাংলাদেশে
চতুর্দশ শতাব্দীর দিল্লী। ধুলো উড়িয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছেন সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলক। তিনি একদিকে মহাজ্ঞানী, অন্যদিকে চরম খামখেয়ালি। ৬৭৫ বছর আগে তাঁর শাসনকাল শেষ হয়েছে বলে ইতিহাস বই দাবি করলেও, আজ যদি তিনি বাংলার কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তরে এসে দাঁড়াতেন, তবে নিজের ছায়াকে চিনতে তাঁর মুহূর্তকাল দেরি হতো না।
হয়তো কোনো এক বিকেলে সচিবালয়ের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মি. কিং তুঘলক মিটিমিটি হাসছেন। জনমানবহীন দিল্লীর প্রাসাদের ছাদে দাঁড়িয়ে তিনি একদা বলেছিলেন, "এখন আমার মন শান্ত হয়েছে।" আজ বাংলাদেশের অদ্ভুতুড়ে সব কাণ্ড দেখে তিনি হয়তো বলছেন, "সাবাস! আমার নামটা তোরা অন্তত ডুবতে দিলি না!"
অকালবোধন: বাংলার রসে তুঘলকি কিচ্ছার ভূমিকা
রসনাপ্রিয় বাঙালির পাতে যেমন সর্ষে-ইলিশ ছাড়া অসম্পূর্ণ, তেমনি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের আলাপ-সালাপও 'তুঘলকি কাণ্ড' ছাড়া বড়ই পানসে। কেউ হয়তো সাত সকালে উঠে ঠিক করলেন যে পাড়ার সব পুকুর ভরাট করে সেখানে মেরিন ড্রাইভ বানানো হবে, অমনি পাশের দোকান থেকে দীর্ঘশ্বাস ভেসে এল— "পুরো তুঘলকি কাণ্ড মশাই!" এই যে এক পাগলা রাজার খামখেয়ালিপনাকে আমরা সাতশ বছর ধরে সযত্নে লালন করে আসছি, তা কি কেবল উপমা? না, এ যেন এক বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার। বাংলার এই যে ধ্রুপদী বাস্তববাদ, যেখানে হুট করে নিয়ম হয় আবার হুট করে সেটি কর্পূরের মতো উড়ে যায়, সেখানে সুলতান তুঘলক কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র নন; তিনি আমাদের অতি আপনজন, ঘরের পাশের কোনো প্রভাবশালী প্রতিবেশী। আজ যদি তিনি বাংলার কোনো ড্রয়িংরুমে এসে বসেন, তবে তাকে বিদেশী কোনো মেহমান নয়, বরং কোনো এক দোর্দণ্ড প্রতাপশালী মোড়ল বলেই ভুল হবে।
গভীর রাতে যখন শাহবাগের মোড়ে নিয়ন আলো জ্বলে ওঠে, কিংবা সচিবালয়ের নির্জন করিডোরে যখন পাহারাদারের বুট জুতার শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়, তখন এক দীর্ঘকায় ছায়াকে প্রায়ই পায়চারি করতে দেখা যায়। তিনি মি. কিং তুঘলক। পরনে কিমখাব নয়, বরং হাল আমলের সাফারি সুট। হাতে একটি আইপ্যাড। তিনি মুচকি হাসছেন। সামনে রাখা ল্যাপটপে তিনি দেখছেন বাংলাদেশের সংবাদ শিরোনাম—'খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর'।
সুলতান নিজের লম্বা দাড়ি চুলকে বিড়বিড় করে বললেন, "সাবাস! আমি রাজধানী বদলিয়েছিলাম বলে আমাকে পাগল বলেছিল ঐতিহাসিকরা। আর তোরা তো রান্নার স্বাদ নিতে সাত সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিস। আমার নামটা তোরা অন্তত ডুবতে দিলি না!"
কথায় আছে, ক্ষমতা মানুষকে পরিবর্তন করে। কিন্তু আধুনিক বাংলায় ক্ষমতা মানুষকে কেবল পরিবর্তন করে না, বরং মানুষের ঘাড়ে সুলতান তুঘলকের অবিনাশী আত্মাটিকে সওয়ার করে দেয়। মানুষটি যেই মুহূর্তে একটি দামি গদিতে বসে, অমনি তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো তুঘলকি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। ছোট হোক বা বড়—যেকোনো চেয়ারে বসলেই সে নিজেকে এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র 'পাগলা রাজা' ভাবতে শুরু করে।
ইতিহাস সাক্ষী, তুঘলক একবার দরিদ্র কৃষকের ছেলের কাছে বেত্রাঘাত সহ্য করেছিলেন ন্যায়বিচারের নামে, আবার পরক্ষণেই বিন্দুমাত্র বিচ্যুতিতে আস্ত শহর ফাঁকা করে দিতেন। আজকের 'মডার্ন তুঘলক'দের চরিত্রও তেমন। কখনো তাঁরা জনদরদী সাজতে ক্যামেরার সামনে টিফিন ভাগ করে খান, আবার পরক্ষণেই ক্ষমতার জোরে এমন সব নিয়ম বানান যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দিল্লী থেকে দৌলতাবাদে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতোই দুঃসহ করে তোলে।
সেদিন এক ছোট দপ্তরের বড় কর্তাকে দেখলাম। তার টেবিলে পাঁচটি টেলিফোন, দশটি কলমদানি. তিনি ফাইল সই করছেন না, বরং ফাইলগুলো এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে পাঠানোর এক বিচিত্র খেলা খেলছেন। তুঘলক যেমন দিল্লিকে জনমানবহীন করেছিলেন তিনদিনের আল্টিমেটামে, এই কর্তাও তেমন এক আদেশে পুরো অফিসকে ওলটপালট করে দিলেন। কারণটা কী? কারণ তার সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হয়েছে অফিসের পর্দার রঙটি তার মেজাজের সাথে মিলছে না। একেই বলে 'তুঘলকি কাণ্ড'।
ইতিহাসের সেই ঘটনাটি স্মরণ করা যাক। শিকারে গিয়ে সুলতান এক কৃষকের ছেলের গায়ে আঘাত করে বসলেন। অনুতপ্ত সুলতান কাজির দরবারে গিয়ে হাজির। বিচারে রাজা খেলেন বেত্রাঘাত। দৃশ্যটি ছিল মহানুভবতার। কিন্তু এর মুদ্রার উল্টো পিঠটি ছিল ভয়ংকর। সেই একই রাজা সামান্য অপরাধে মানুষকে বুনো হাতির পায়ের নিচে ছুড়ে দিতেন।
আধুনিক বাংলাদেশেও আমরা এই 'সিলেক্টিভ মহানুভবতা' দেখি। আমরা দেখি বড় বড় চুরির বিচার নেই, কিন্তু পকেটে দশ টাকা নিয়ে পালানো চোরকে নিয়ে পুরো সমাজ তুঘলকি উন্মাদনায় মেতে ওঠে। সুলতান তুঘলক যেমন অপরাধীদের হাত-পা বেঁধে হাতির সামনে দিতেন, আমাদের আধুনিক প্রশাসনেও কিছু 'ডিজিটাল হাতি' তৈরি হয়েছে। একবার যদি কেউ ভুল বা সত্য বলে ক্ষমতার কোপানলে পড়ে, তবে তার মৃতদেহ যেন অদৃশ্য প্রাসাদের বাইরে ঝুলিয়ে রাখা হয়—যাতে বাকিরা বিদ্রোহ করার কথা স্বপ্নেও না ভাবে।
মরোক্কোর পরিব্রাজক ইবন বতুতা যদি আজ বাংলাদেশে আসতেন, তবে তার ডায়েরির পাতাগুলো হয়তো কান্নায় ভিজে যেত। তিনি লিখেছিলেন, "দিল্লি নগরী মরুভূমিতে পরিণত হয়েছিল।" আজ বতুতা সাহেব হয়তো ঢাকা শহরে জ্যামে বসে লিখতেন, "এটি এমন এক নগরী যেখানে মানুষের চেয়ে গাড়ির সংখ্যা বেশি হলেও গতি নেই।"
তিনি আরও লিখেছিলেন, সুলতানের আদেশ পালনে ব্যর্থ হওয়ায় এক পঙ্গু ব্যক্তিকে কামানে ভরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আজকের দিনে কামান নেই, কিন্তু ‘শোকজ’ আর ‘ওএসডি’ নামক কামানে ভরে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রান্তে নিক্ষেপ করা হয়। তুঘলক যেমন অন্ধ ব্যক্তিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন দৌলতাবাদে, আমাদের দেশের সাধারণ সেবাগ্রহীতারাও সরকারি অফিসের এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়ার সময় ঠিক তেমনই অন্ধ আর পঙ্গু বোধ করেন।
ইতিহাসে বর্ণিত আছে, তুঘলক অবাধ্য প্রজাদের বুনো হাতির পায়ের নিচে ছুড়ে দিতেন। আজ হয়তো সশরীরে হাতি নেই, কিন্তু 'তুঘলকি কাণ্ড' ঘটিয়ে এক অদৃশ্য শাসনযন্ত্রের চাকায় যখন সাধারণ মানুষের স্বপ্নগুলো পিষ্ট হয়, তখন দৃশ্যটি খুব একটা ভিন্ন মনে হয় না। সেই যে অন্ধ লোকটিকে দিল্লী থেকে দৌলতাবাদে টেনে নেওয়া হয়েছিল, আজকের সাধারণ মানুষ কি ঠিক তেমনই কোনো এক গন্তব্যহীন 'উন্নয়নের' দৌড়ে শামিল হয়নি?
বাংলায় ‘তুঘলকি কাণ্ড’ নামের প্রবাদটি কেবল ভাষার অলংকার নয়, এটি বাঙালির যাপনের অংশ। ব্রিজ আছে কিন্তু দুই পাশে রাস্তা নেই—এটি কি তুঘলকি কাণ্ড নয়? এমন সব ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়েছে যার নামার রাস্তা গিয়ে ঠেকেছে ল্যাম্পপোস্টে!
তুঘলক একবার রাজধানী দিল্লি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ৭০০ মাইল দূরের দৌলতাবাদে। যাওয়ার পথে মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। পথিমধ্যে তিনি উপলব্ধি করলেন, দৌলতাবাদে পানি নেই! অমনি আদেশ দিলেন, "আবার সবাই দিল্লিতে ফিরে চল!" বর্তমানের ড্রেনেজ সিস্টেম বা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির দৃশ্য দেখলে সেই ফিরে আসার স্মৃতিটাই মনে পড়ে। একবার রাস্তা বানানো হয়, পরদিন ওয়াসা এসে খোঁড়ে, তার পরদিন বিদ্যুৎ বিভাগ এসে খুঁটি পোঁতে। এই যে বারবার ভাঙা আর গড়ার খেলা—এটিই তো তুঘলকি কাণ্ডের আধুনিক সংস্করণ।
মুহম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন অত্যন্ত বিদ্বান। তাঁর জ্ঞানই ছিল তাঁর সব অপকর্মের ঢাল। বর্তমান বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রেও যখন আমরা দেখি—'খিচুড়ি রান্না শিখতে' কিংবা 'পুকুর কাটা দেখতে' সরকারি খরচে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক, তখন তুঘলকি আত্মার অট্টহাসি শোনা যায়। যে রাজত্বে ব্রিজ আছে কিন্তু রাস্তা নেই, কিংবা রাস্তা আছে কিন্তু মাঝপথে বিশাল গর্তের রাজত্ব—সেখানে তুঘলক ছাড়া আর কার উত্তরাধিকার থাকতে পারে?
নেদারল্যান্ডে গিয়ে খাল কাটা শিখতে হবে—এটি শুনলে স্বয়ং ইবন বতুতাও হয়তো তাঁর 'রেহালা' ডায়েরিটি বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দিয়ে সন্ন্যাস নিতেন। তুঘলক যেমন তামা আর রূপার মুদ্রার মান এক করে দিয়ে অর্থনীতিকে লাটে তুলেছিলেন, বর্তমানের এই বিচিত্র প্রকল্পগুলোও যেন সেই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
সুলতান প্রাসাদের ছাদে উঠে যখন দেখলেন কোথাও আগুন জ্বলছে না, কোনো মানুষ নেই, তখন তিনি শান্ত হয়েছিলেন। আজকের যুগে মানুষের অভাব নেই, কিন্তু নীতি-নৈতিকতার খরা এতটাই যে মি. তুঘলকের মন এমনিতেই শান্ত হয়ে যায়। যখন তিনি দেখেন একটি সরকারি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সেটি আগাছায় ভরে যায় কিন্তু বাজেট শেষ হয়ে যায়, তখন তিনি প্রাসাদের ছাদে দাঁড়িয়ে হাসেন।
তিনি হাসেন যখন দেখেন রাস্তা নেই কিন্তু টোল প্লাজা দাঁড়িয়ে আছে। তিনি হাসেন যখন দেখেন হাসপাতালের বেড নেই কিন্তু গেটে বিশাল তোরণ।
দিল্লির সুলতান চলে গেছেন অনেক আগেই। কিন্তু তার ছায়াটি বাংলাদেশের মানচিত্রে আঠার মতো লেগে আছে। ছোট দোকানদার থেকে বড় আমলা—সবার মাঝেই এক আধটু তুঘলক বাস করে। ক্ষমতা পেলে আমরা সবাই যেন একেকজন পাগলা রাজা হয়ে উঠি। খামখেয়ালিপনাই আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়।
যতদিন বাংলাদেশে 'ব্রিজ আছে রাস্তা নাই' প্রথা থাকবে, যতদিন খিচুড়ি রান্না শিখতে ফাইল বিদেশে উড়বে, ততদিন মি. কিং তুঘলক আমাদের কাঁধে চড়ে ঘুরে বেড়াবেন। তিনি চলে যাননি, তিনি কেবল পোশাক বদলেছেন। তিনি এখন আমাদের সিস্টেমের নাম, আমাদের খামখেয়ালিপনার নাম।
সুলতান তুঘলক মারা যাওয়ার সময় হয়তো বলেছিলেন, "আমি যা করেছি ইতিহাসের জন্য করেছি।" আজ আমরা যা করছি, তা করছি তুঘলকি কাণ্ডকে অমর করার জন্য। ৬৭৫ বছর আগের সেই সুলতান আর আজকের 'চেয়ারম্যান-আমলা-মড়ল'দের মধ্যে ব্যবধান কেবল সময়ের, চরিত্রের নয়। ক্ষমতার আত্মা চিরকালই তুঘলকি।
-অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, আমাদের অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)
#সিংহাসনের_প্রেতাত্মা #তুঘলকি_কাণ্ড #পাগলা_রাজা #ক্ষমতার_খামখেয়াল #বাংলাদেশের_ব্যবস্থা #ব্রিজ_আছে_রাস্তা_নাই #আমলাতন্ত্র #রাষ্ট্রের_ব্যঙ্গ #ইতিহাস_ও_বর্তমান #ব্যঙ্গ_সাহিত্য #TughlaqSyndrome #GhostOfPower #SatireOnState #BureaucraticMadness #PowerAndAbsurdity #PoliticalSatire #BangladeshPolitics #StateFailureNarrative