01/13/2026 ইরানে বিক্ষোভ দমনে রক্তপাত: কড়া সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
Special Correspondent
১২ January ২০২৬ ১৯:৫৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে বিক্ষোভকারীদের ওপর লেথাল ফোর্স বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে লাল রেখা (Red Line) টেনেছিলেন ইরান তা অতিক্রম করলে 'অত্যন্ত কঠোর' ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি:
রবিবার ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "ইরান আমাদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করছে, কিন্তু তারা যদি নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করা বন্ধ না করে তবে আমাদের সামনে অনেক শক্তিশালী বিকল্প (options) খোলা আছে। আমাদের সামরিক বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। তিনি আরও যোগ করেন ইরানের শাসকরা সহিংসতার মাধ্যমে শাসন করছে। এটি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।
সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিকল্পসমূহ মার্কিন প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যার মধ্যে রয়েছে:
নিশানাভিত্তিক সামরিক হামলা: ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তর বা বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা। তবে 'বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড' বা সরাসরি পদাতিক সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।
সাইবার অপারেশন: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ঠেকাতে এবং ইরানি সামরিক নেটওয়ার্ক ব্যাহত করতে সাইবার হামলা।
প্রযুক্তিগত সহায়তা: এলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরানিদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা।
নতুন নিষেধাজ্ঞা: জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ।
ইরানের পাল্টা হুমকি:
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয় তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বাণিজ্য জাহাজগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকবে না।
মানবাধিকার পরিস্থিতি ও হতাহতের খবর:
মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনের বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং আটক করা হয়েছে ১০,৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে। এর মধ্যে ১৬৯ জন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েল ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট:
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন, যেখানে ইরানের বিষয়ে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র