01/18/2026 জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত
odhikarpatra
১৭ January ২০২৬ ২৩:৩৩
✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্যালোচনায় চলতি মাসে ঢাকায় আসার কথা ছিল জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদলের। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সূত্র জানায়, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটির ঢাকা সফরের কথা ছিল। একই সঙ্গে আগামী ২১ জানুয়ারি এলডিসি উত্তরণ নিয়ে একটি স্বাধীন প্রস্তুতিমূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনের সূচিও নির্ধারিত ছিল। সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়েই মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে সফরটি না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী মাসে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি মূল্যায়নে গত নভেম্বর থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে জাতিসংঘ। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “জাতিসংঘ এ দফায় আসছে না মানে পরে আসবে। তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন আমরা পেয়ে যাব। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোবে।”
এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এলডিসি থেকে বের হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় বাংলাদেশ আর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাবে না। এতে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসি বাংলাদেশসহ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন গত ২৪ আগস্ট একযোগে সংবাদ সম্মেলনে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানায়। সরকার ইতিমধ্যে এই দাবির কথা জাতিসংঘকে জানিয়েছে। তবে উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি অন্তর্বর্তী সরকার।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা। তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরণ পেছানোর আবেদন করবে না। নির্বাচিত সরকার চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই মুহূর্তে বড় পরিসরের কোনো বৈঠক করা সম্ভব নয়। উত্তরণ পেছাতে হলে বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যাবে এবং সেখানে ৫১ শতাংশ ভোট পাওয়া সহজ কাজ নয়।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। ২০২১ সালের পর্যালোচনার পর উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে।
#এলডিসি #জাতিসংঘ #বাংলাদেশ_অর্থনীতি #এলডিসি_উত্তরণ
#জাতীয়_নির্বাচন #বাণিজ্য #odhikarpatra