01/18/2026 ইরানে বিক্ষোভ: নিহতের কথা স্বীকার করলেন খামেনি, দায়ী করলেন ট্রাম্পকে
Special Correspondent
১৮ January ২০২৬ ১৮:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন। তবে এই সহিংসতার জন্য তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে তাকে অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে খামেনেয়ী অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এই বিদ্রোহে উস্কানি দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সহিংসতার জন্য পাল্টাপাল্টি দোষারোপ:
৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা বলেন আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি এবং ইরানি জাতির বিরুদ্ধে অপবাদের জন্য অপরাধী মনে করি। তার মতে বিক্ষোভকারীরা ছিল মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রশিক্ষিত এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত কিছু সরল যুবক। তারা দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মসজিদ, ব্যাংক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে নিরাপত্তা বাহিনী ভবনের ছাদ থেকে এবং ড্রোন ব্যবহার করে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক:
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্যমতে চলমান এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং অন্তত ২৪,০০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিহতের এই সংখ্যাকে ভুল তথ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে খামেনেয়ীর বক্তব্যে কয়েক হাজার নিহতের বিষয়টি এখন দাপ্তরিকভাবে স্পষ্ট হলো।
ট্রাম্পের কড়া জবাব:
খামেনেয়ীর এই ভাষণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি খামেনেয়ীকে একজন অসুস্থ ব্যক্তি (Sick Man) বলে অভিহিত করেন। পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন:একজন নেতার কাজ হলো দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা নয়। ইরানে এখন নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, তার কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান সরকার ৮০০ মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
ইন্টারনেটের বর্তমান অবস্থা:
বিক্ষোভ দমাতে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়েছিল। সাইবার ওয়াচডগ NetBlocks জানিয়েছে শনিবার সকালে সংযোগ সামান্য বাড়লেও তা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ। সরকার সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
শঙ্কা কাটছে না বিক্ষোভকারীদের
বিক্ষোভ আপাতত থিতিয়ে এসেছে বলে খামেনেয়ী দাবি করলেও গ্রেপ্তারকৃতদের ভাগ্যে কী ঘটবে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরানের প্রসিকিউটর আলি সালেহি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। অনেক বিক্ষোভকারীর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র