01/29/2026 ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: পরমাণু চুক্তির সময় শেষ, ধেয়ে আসছে বিশাল নৌ-বহর
Special Correspondent
২৮ January ২০২৬ ২৩:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য তেহরানের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে একটি বিশাল আর্মাডা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্পের আর্মাডা এবং সামরিক প্রস্তুতি
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, একটি বিশাল নৌ-বহর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি এই বহরটিকে ভেনিজুয়েলায় পাঠানো বাহিনীর চেয়েও বড় বলে দাবি করেন এটি তার লক্ষ্য পূরণে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিবিসি ভেরিফাই এবং বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে:
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন: এই বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বিশাল বহর বর্তমানে ওমান সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় অবস্থান করছে।
বিমান মোতায়েন: জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক বিমান ঘাঁটিতে অন্তত ১৫টি অত্যাধুনিক ফাইটার জেট পৌঁছেছে। এছাড়া কাতার এবং ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতেও মার্কিন সামরিক বিমানের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি: ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোতে ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি মার্কিন স্পাই প্লেন এবং ড্রোন উড়তে দেখা গেছে।
তেহরানের কড়া জবাব
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে কোনো প্রকার উস্কানি বা হামলা হলে ইরান নজিরবিহীন পাল্টা জবাব দেবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, সামরিক হুমকির মাধ্যমে কূটনীতি সফল হয় না। আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই হুমকি ও অযৌক্তিক দাবি ত্যাগ করতে হবে।
পরমাণু কেন্দ্র এবং মিডনাইট হ্যামার
গত বছরের জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার নামে হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্প সেই হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এবারের হামলা হবে আরও ভয়াবহ। উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও একটি বড় কারণ। গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে:
HRANA-এর তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৬,৩০১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। যার মধ্যে ৫,৯২৫ জনই সাধারণ বিক্ষোভকারী।
IHR-এর সতর্কবার্তা: নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সুর নরম করে বলেছিলেন যে, তিনি খবর পেয়েছেন বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনরায় সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি ইরানের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র