02/06/2026 ইতিহাসের সবচেয়ে দামী পদক: মিলানো-কোটিনা অলিম্পিকে রেকর্ড ভাঙছে সোনার দাম
Special Correspondent
৬ February ২০২৬ ০১:২৪
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইতালির মিলানো ও কোটিনায় চলমান শীতকালীন অলিম্পিক কেবল ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্যই নয় বরং পদকের অস্বাভাবিক আর্থিক মূল্যের কারণেও ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবারের পদকগুলো অলিম্পিক ইতিহাসের সবচেয়ে দামী পদকে পরিণত হয়েছে।
কেন এবারের পদক এত দামী?
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে সোনার দাম প্রায় ১০৭% এবং রুপার দাম প্রায় ২০০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পদকগুলোর অন্তর্নিহিত মূল্য (Intrinsic value) আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
স্বর্ণপদক: বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী একটি স্বর্ণপদকের আর্থিক মূল্য প্রায় ২,৩০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা) যা প্যারিস অলিম্পিকের তুলনায় দ্বিগুণ।
রৌপ্যপদক: দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের দেওয়া রুপার পদকটির মূল্য এখন প্রায় ১,৪০০ ডলার যা দুই বছর আগের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
ব্রোঞ্জপদক: তামা দিয়ে তৈরি ৪২০ গ্রামের এই পদকটির আর্থিক মূল্য তুলনামূলক কম, মাত্র ৫.৬০ ডলারের কাছাকাছি।
সব সোনা কিন্তু সোনা নয়
একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, অলিম্পিকের স্বর্ণপদক আসলে পুরোপুরি সোনা দিয়ে তৈরি নয়। মিলানো-কোটিনা অলিম্পিকের প্রতিটি স্বর্ণপদকের ওজন ৫০৬ গ্রাম, যার মধ্যে মাত্র ৬ গ্রাম খাঁটি সোনা ব্যবহৃত হয়েছে। বাকি ৫০০ গ্রামই আসলে রুপা। ১৯১২ সালের স্টকহোম অলিম্পিকের পর থেকে খাঁটি সোনার পদক দেওয়া বন্ধ করে দেয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।
ইতালীয় শৈল্পিকতা ও স্থায়িত্ব
এবারের পদকগুলো তৈরি করেছে ইতালীয় স্টেট মিন্ট (Italian State Mint)। পরিবেশবান্ধব উপায়ে এবং পুনর্ব্যবহৃত (Recycled) ধাতু দিয়ে এই পদকগুলো তৈরি করা হয়েছে। নকশায় ইতালীয় ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা পদকগুলোকে সংগ্রাহকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ঐতিহাসিক ও আবেগীয় মূল্য
তবে আর্থিক মূল্যের চেয়ে অ্যাথলেটদের কাছে এর আবেগীয় মূল্যই বেশি। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বল্ডউইনস -এর মতে, ঐতিহাসিক অলিম্পিক পদকগুলো নিলামে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯১২ সালের একটি স্বর্ণপদক এর আগে ২৬,০০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনা ও রুপার এই দাম আগামী ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক পর্যন্ত আরও বাড়তে পারে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র