02/22/2026 ৫২-র সেই অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার শপথ নিয়ে শহীদ মিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের শ্রদ্ধাঞ্জলি
odhikarpatra
২১ February ২০২৬ ২১:১৭
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,অধিকারপত্র ডটকম।
শত প্রতিকূলতা ও অবমাননার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের শিক্ষকদের তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত শিক্ষকরা আজিমপুর থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত নগ্ন পায়ে হেঁটে জানালেন ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।
একুশে ফেব্রুয়ারি—একই অঙ্গে দুই রূপ। একদিকে বুক ফাটানো শোকের হাহাকার, অন্যদিকে শিরদাঁড়া টানটান করা গর্বের ইতিহাস। রক্তে ভেজা পিচঢালা পথে যখন ভোরের শিশিরভেজা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি বেজে ওঠে, তখন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগে। সেই শিহরণ আর দায়বদ্ধতা থেকেই আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের নীল দলের শিক্ষকরা যৌথভাবে পালন করলেন এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শঙ্কা ছাপিয়ে শ্রদ্ধার পথে
আজকের দিনটি শুধু রুটিনমাফিক পুষ্পস্তবক অর্পণের ছিল না। এর প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় শিক্ষকদের মতাদর্শের কারণে নানাভাবে হেনস্তা ও অবমাননার শিকার হতে হয়েছে। মনের কোণে ছিল সেই পুরনো আশঙ্কার মেঘ। কিন্তু সেই মেঘ সরিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত শিক্ষকরা রাজপথে নামলেন।
বেলা তখন বারোটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকম জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সিনিয়র শিক্ষকের একটি দীর্ঘ মিছিল যাত্রা শুরু করে। নগ্ন পায়ে, হাতে ফুলের তোড়া—এক নিবিড় শ্রদ্ধা নিয়ে তারা এগিয়ে চলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে।_copy_640x360.jpg)
স্মৃতির মিনারে পুষ্পবৃষ্টি
কর্মসূচির শুরুতেই শিক্ষকরা শ্রদ্ধা জানান ভাষাসৈনিক ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর স্মৃতিস্তম্ভে। এরপর স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যে মহান ভাষাশহীদ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ঠিক ১২টা ৪৫ মিনিটে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে মহান শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা। এক গম্ভীর নীরবতায় যেন চারপাশ থমকে গিয়েছিল কয়েক মুহূর্তের জন্য।
উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, "বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আর বাঙালির আত্মপরিচয় অবিচ্ছেদ্য। আমরা সেই অদম্য শক্তির উত্তরাধিকারী।" অন্যদিকে, আইন বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন সংবিধানের আলোকে দেশের সকল অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলার ডাক দেন। তিনি বলেন, "ভিন্নমতকে দমন করার সেই ৫২-পূর্ববর্তী নীতি যারা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে গণতন্ত্র ও জ্ঞান—কোনোটিরই বিকাশ হবে না।"
আজিমপুরের শান্তিতে শেষ বিনতি
ভাষাশহীদ ও স্থাপত্যশিল্পীর সমাধিতে নীলদলের শ্রদ্ধা
শহীদ মিনার থেকে শিক্ষকদের কাফেলাটি ছুটে যায়
আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা ভাষাশহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। মোনাজাতের হাত তুলে যখন তারা শহীদদের আত্মার শান্তি প্রার্থনা করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত সকলের চোখেমুখে ছিল এক দৃঢ় প্রত্যয়।
একুশের চেতনায় উদ্ভাসিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের কর্মসূচির পরবর্তী অংশ ছিল আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষাশহীদ আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার এবং শফিউর রহমান।
কবরস্থানের দক্ষিণ গেট দিয়ে প্রবেশ করে কিছুটা পথ এগোলেই চোখে পড়ে সাদা-কালো মার্বেল পাথরে পরম মমতায় বাঁধাই করা তিন ভাষাশহীদের সমাধি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত শিক্ষকবৃন্দ এই তিন শহীদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিধন্য এই প্রাঙ্গণেই শিক্ষকরা শ্রদ্ধা জানান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রধান স্থপতি ও বরেণ্য চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান-এর সমাধিতে। তাঁর কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও জিয়ারত শেষে শিক্ষকবৃন্দ দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর অনবদ্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
উপস্থিত ছিলেন যারা
এই শোকাতুর অথচ গর্বিত মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদগণ। উপস্থিত ছিলেন:
অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান (সাবেক উপাচার্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়); অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম (সাবেক উপাচার্য, আইইউবিএটি ও সাবেক প্রক্টর, ঢাবি); অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান (সাবেক ডিন, ফার্মেসি অনুষদ); অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান (শিক্ষা বিশেষজ্ঞ); অধ্যাপক ড. সুরাইয়া ইসলাম (ইসলামী স্থাপত্য কলায় বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ড. শবনম জাহান (সাবেক প্রভোস্ট), চারুকলার ড. সিদ্ধার্থ সিধু এবং সংস্কৃতি বিভাগের কালিদাস ভক্তসহ আরও অনেকে।
শেষ কথা: চেতনার মশাল
যাওয়ার আগে শিক্ষকরা একসুরে বলে গেলেন, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা কোনো শৃঙ্খল মানে না। শিক্ষকদের অবমাননা স্বাধীন দেশের জন্য এক চরম হতাশার অধ্যায়। তারা বিশ্বাস করেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শই তাদের একমাত্র পাথেয়। ভয় আর হুমকিকে তুড়ি মেরে তারা আজ প্রমাণ করলেন—শিক্ষকদের কণ্ঠরোধ করা গেলেও সত্যের পথ রুদ্ধ করা অসম্ভব।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির আয়নায় একুশ: আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের ভাবনা
নীল দলের শিক্ষকদের এই তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি। ভাষা আন্দোলনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে একুশের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
অধিকার ও সংগ্রামের বজ্রকণ্ঠ
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়ের সংকট ও শিক্ষকদের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন আন্দোলনের তিন কাণ্ডারি। তাঁদের বক্তব্যে পেশাগত মর্যাদা, রাজনৈতিক মুক্তি এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসে।
অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি):
"২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। আজ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভিন্নমতের কারণে অপমানিত হতে হয়, তখন আমরা ব্যথিত হই। আমরা এখানে শুধু ফুল দিতে আসিনি, এসেছি শিক্ষকদের হারানো মর্যাদা ও পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে। শিক্ষকরা সমাজের আলোকবর্তিকা; তাঁদের কণ্ঠরোধ করার যেকোনো অপচেষ্টা আমরা রুখে দেব। এই পবিত্র দিনে আমাদের অঙ্গীকার—শিক্ষকদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নীল দল রাজপথ ছাড়বে না।"
অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন (সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিভাগ): "বাংলাদেশের সংবিধানের মূলস্তম্ভ হলো গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা। ৫২-র ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই আমাদের সংবিধানের ভিত্তি রচিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখছি সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারগুলো বারংবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অপশক্তি যখন সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষকদের অবমাননা করে, তখন আমাদের চুপ থাকা অপরাধ। আমি আহ্বান জানাব, সংবিধানের আলোকে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অপশক্তির মোকাবিলায় এই সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নই হোক আমাদের আজকের শপথ।"
অধ্যাপক ড. আকম জামাল উদ্দিন (আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় নীলদল): "বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের প্রথম সোপান ছিল ৫২-র ভাষা আন্দোলন। আজ আমরা এমন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি যেখানে মুক্তভাবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। নীলদল সবসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক অধিকার ছাড়া একটি জাতির মেধার বিকাশ সম্ভব নয়। সকল ভয়-ভীতি ও হুমকি উপেক্ষা করে আজ শিক্ষকদের এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার লড়াইয়ে নীলদলই অগ্রসেনানী।"
এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে আলোচনা করেন অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান, অধ্যাপক ড. সুরাইয়া ইসলাম ও অধ্যাপক ড. শবনম জাহান। তাঁরা একসুরে বলেন, ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও প্রকৃত জ্ঞান বিকশিত হতে পারে না।
পরে এক প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন: "একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় শিক্ষার মূল ভিত্তি। ১৯৫২ সালে আমাদের ছাত্র-শিক্ষকরা কেবল ভাষার জন্য লড়েননি, তাঁরা লড়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য। দুর্ভাগ্যবশত, আজ যখন দেখি শিক্ষকদের মুক্তচিন্তাকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, তখন মনে হয় আমাদের শিক্ষার মূল চেতনা হুমকির মুখে। শিক্ষকদের অবমাননা মানে একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। জ্ঞান বিকাশের জন্য যে নির্ভয় পরিবেশ প্রয়োজন, তা ফিরিয়ে আনাই হোক আজকের শপথ।"
অপরদিকে নীলদলের কো-কনভেনর ড. সিদ্ধার্থ সিধু (চারুকলা অনুষদ) মনে করেন: "একুশ আমাদের দৃষ্টি দিয়েছে, দিয়েছে রং আর তুলির ভাষায় প্রতিবাদ করার সাহস। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রতিটি ইঞ্চিতে আমাদের চারুকলার শিল্পীদের আবেগ আর দ্রোহ মিশে আছে। বর্তমানে সৃজনশীল কাজে বা ভিন্নমতের চর্চায় যে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা আমাদের সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত। শিল্প আর সংস্কৃতি তখনই প্রাণ পায় যখন সেখানে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। আমরা আজ এই স্মৃতিস্তম্ভে দাঁড়িয়ে সেই হারানো মর্যাদা ও শৈল্পিক স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছি।"
সমাপ্তি ঘোষণা
আজকের সফল কর্মসূচি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের উপদেষ্টা এবং এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা নোবিপ্রবি-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান এক বিশেষ বার্তায় জানান: “আজকের দুপুরের কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করতে পেরে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ—বিশেষ করে নীলদল—সর্বদা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে দীপ্ত পায়ে এগিয়ে যাবে।”
প্রতিফলন ও সমাপনীআ
আজকের এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল ভয়কে জয় করার এক দৃঢ় মহড়া। আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় যখন বিশেষ মোনাজাত করা হয়, তখন উপস্থিত শিক্ষকদের চোখেমুখে ছিল এক অটল সংকল্প। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ৫২-পূর্ববর্তী সেই অন্ধকার ও দমনমূলক নীতি যারা পুনরায় কায়েম করতে চায়, তাদের এই বাংলার মাটিতে ঠাঁই হবে না।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জনৈক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সময় সর্ববৃহৎ বুদ্ধিজীবী সংগঠন ছিল এই নীলদল, কিন্তু আজ আপনাদের মাত্র ১১ জন উপস্থিত কেন?"
উপস্থিত নীলদলের নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত সংক্ষেপে অথচ দৃঢ়তার সাথে এই প্রশ্নের উত্তর দেন। তাঁরা জানান:"আজ এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বা সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব মেলানোর দিন নয়। আজ হলো সকল ভয় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে আদর্শিক ঐক্যের সময়। আমরা যারা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি, তারা সংখ্যার চেয়ে চেতনার শক্তিতেই বলীয়ান।"
