02/22/2026 সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্পের নতুন চাল: বিশ্বজুড়ে ১৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা
Special Correspondent
২২ February ২০২৬ ০০:৩৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্ববর্তী শুল্ক নীতিকে 'বেআইনি' ঘোষণা করে বাতিল করে দেওয়ার মাত্র একদিন পরই এই পালটা পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়া ও নতুন ঘোষণা
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ব্যবধানে এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায় ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' (IEEPA) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এই রায়ের পরপরই ট্রাম্প বিচারকদের "নির্বোধ" বলে আখ্যা দেন এবং একে একটি "অ্যান্টি-আমেরিকান" সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রাথমিকভাবে ট্রাম্প ১০% শুল্কের কথা বললেও শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ জানান আইনি সীমার সর্বোচ্চ পর্যায় অর্থাৎ ১৫% শুল্ক কার্যকর করবেন।
আইনি মারপ্যাঁচ ও সময়সীমা
প্রেসিডেন্ট এবার শুল্ক আরোপের জন্য ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করছেন। এই আইনের অধীনে: আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এটি সর্বোচ্চ ৫ মাস পর্যন্ত বহাল রাখতে পারবে। ফার্মাসিউটিক্যালস গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ধাতুর মতো কিছু জরুরি পণ্য এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
ব্যবসায়ী ও কৃষকদের উদ্বেগ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন অভ্যন্তরীণ মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে:
সমর্থন: বাল্টিমোরের মার্লিন স্টিল ওয়্যার প্রোডাক্টসের মালিক ড্রু গ্রিনব্লাট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন এটি আমেরিকান উৎপাদন শিল্প ও মধ্যবিত্তের কর্মসংস্থান রক্ষায় সহায়ক হবে।
বিরোধিতা: ভার্জিনিয়ার সয়াবিন চাষি জন বয়েড এই রায়কে কৃষকদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ইউএস চেম্বার অব কমার্স এবং ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন অবিলম্বে আগের নেওয়া ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতা
সাবেক ব্রিটিশ বাণিজ্য উপদেষ্টা অ্যালি রেনিসন সতর্ক করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও "অগোছালো" হয়ে উঠবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যারা আগে ১০% শুল্কের ব্যাপারে একমত হয়েছিল, তারা এখন নতুন ১৫% হারের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
---মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র