02/27/2026 অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের পথে মানুষ: ৬ মার্চ আর্টেমিস–২ উৎক্ষেপণ করবে NASA
Special Correspondent
২৭ February ২০২৬ ০০:০৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
দীর্ঘ অর্ধ-শতাব্দীর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের দেশে পাড়ি জমাচ্ছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চার নভোচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হবে নাসার শক্তিশালী এসএলএস রকেট।
প্রস্তুতির শেষ ধাপ: ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল সফল
গত (২০ ফেব্রুয়ারি) ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে নাসা তাদের বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটের মহড়া বা ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রায় ৭ লাখ গ্যালন তরল জ্বালানি ভরে এই পরীক্ষা চালানো হয়। নাসার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লোরি গ্লেজ জানিয়েছেন ফেব্রুয়ারির শুরুতে হাইড্রোজেন জ্বালানি লিক হওয়ার কারণে প্রথম মহড়া বাধাগ্রস্ত হলেও দ্বিতীয় দফায় সেই কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ওঠা গেছে। কাউন্টডাউন টি-২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে রকেটের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে যা মিশন শুরুর সবুজ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১০ দিনের রোমাঞ্চকর যাত্রা
আর্টেমিস-২ মিশনটি হবে ১০ দিনের। এটি সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবে না। চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
প্রথম দিন: নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবেন এবং যানের সব সিস্টেম পরীক্ষা করবেন।
চাঁদের পথে: সব ঠিক থাকলে তারা চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। চার দিনের ভ্রমণ শেষে তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৬,৫০০ থেকে ৯,৫০০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়বেন।
রেকর্ড দূরত্ব: এই মিশনের মাধ্যমে নভোচারীরা মহাকাশে মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দূরপাল্লার ভ্রমণের রেকর্ড গড়বেন।
প্রত্যাবর্তন: চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) প্রদক্ষিণ শেষে আরও চার দিনের যাত্রা শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে মিশনটি শেষ হবে।
যারা গড়বেন ইতিহাস
এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী। তারা হলেন:
১. রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার, যুক্তরাষ্ট্র)
২. ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট, যুক্তরাষ্ট্র)
৩. ক্রিস্টিনা কোচ (মিশন স্পেশালিস্ট, যুক্তরাষ্ট্র)
৪. জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট, কানাডা)
নাসার ৯৮ মিটার উচ্চতার দানবীয় এসএলএস রকেটের মাথায় বসানো ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকবেন তারা। একটি ছোট বাসের সমান আয়তনের এই ক্যাপসুলটিই হবে আগামী ১০ দিন তাদের ঘর-বাড়ি।
লক্ষ্য যখন ২০২৮: চাঁদে স্থায়ী বসতি
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর আর কোনো মানুষ চাঁদে যায়নি। আর্টেমিস-২ মিশনের সাফল্য ২০২৮ সালের মধ্যে আর্টেমিস-৩ মিশনের পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে মানুষ পুনরায় চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। বর্তমানে এই মহাকাশ দৌড়ে নাসার পাশাপাশি ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ও জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন কাজ করছে। অন্যদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নামার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে চীনও। মূলত চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানি ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান এবং সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির লক্ষ্যেই এই তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নাসার লোরি গ্লেজের ভাষায়, প্রতি রাতে যখন আমি চাঁদের দিকে তাকাই, আমি শিহরিত বোধ করি। চাঁদ আমাদের ডাকছে এবং আমরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
---মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র