03/05/2026 আমরা শুধু একটু স্বাভাবিক জীবন চাই–যুদ্ধের বিভীষিকায় তেহরানের সাধারণ মানুষের আকুতি
Special Correspondent
৫ March ২০২৬ ০২:৩০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
তেহরানের আকাশ এখন আর নক্ষত্রে ভরা থাকে না থাকে আগুনের গোল্লায়। ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যখন ইরানি রাজধানীকে প্রকম্পিত করছে। তখন সুড়ঙ্গে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষের মুখে কেবল একটিই প্রার্থনা আমরা একটু স্বাভাবিক জীবন চাই। বিবিসি-র কাছে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বর্ণনায় একসময়ের ব্যস্ত শহর তেহরান এখন এক ভুতুড়ে নগরী। রাস্তাঘাট জনশূন্য, দোকানপাট বন্ধ, আর আকাশে সারাক্ষণ চক্কর দিচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
জনশূন্য তেহরান ও স্তব্ধ জীবন
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অপারেশন এপিক ফিউরির প্রভাবে থমকে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। তেহরানের এক বাসিন্দা বিবিসি-কে বলেন, শহরটি এখন একদম ফাঁকা। আমরা যুদ্ধের মধ্যে বাস করছি না, আমরা মৃত্যুর প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছি। আমাদের অপরাধ কী? আমরা তো শুধু শান্তিতে বাঁচতে চেয়েছিলাম। ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তিন দিনের নির্ধারিত জানাজা অনুষ্ঠানও নিরাপত্তার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জমায়েতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।
যুদ্ধের ভয়াবহতা: সমুদ্র থেকে স্থলভাগ
যুদ্ধ কেবল তেহরানের আকাশেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস দেনা (Iris Dena) ডুবিয়ে দিয়েছে। ১৮০ জন ক্রু-র মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে যা এই যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতির অন্যতম উদাহরণ। এদিকে হোয়াইট হাউস বলছে ইরানকে তাদের কাজের মূল্য রক্ত দিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে সাধারণ ইরানিরা মনে করছেন নেতাদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের বলি হতে হচ্ছে নিরপরাধ জনগণকে। দক্ষিণ ইরানে একটি স্কুলে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১৬০ জন নিহতের খবর আসলেও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে না।
সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বনাম মানবিক বিপর্যয়
সামরিক বিশ্লেষক পল অ্যাডামসের মতে ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। আকাশসীমা এখন পুরোপুরি মার্কিন ও ইসরায়েলি জেটের নিয়ন্ত্রণে। দামি মিসাইলের বদলে এখন তারা অনেক সস্তা জিপিএস-গাইডেড বোমা ব্যবহার করে নিখুঁত নিশানায় হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার সক্ষমতা ৮৬% কমে গেছে। কিন্তু এই সামরিক পরিসংখ্যানের আড়ালে চাপা পড়ছে কয়েক কোটি মানুষের আতঙ্ক। তেহরানের অলিগলিতে এখন শুধু সাইরেনের শব্দ আর পরমুহূর্তে কী হবে সেই অনিশ্চয়তা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লেবাননে স্থল অভিযান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। স্পেনের মতো দেশগুলো মার্কিন সামরিক শক্তিকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষের চোখে এখন কেবলই ক্লান্তি। তাদের দাবি কোনো ভূ-রাজনৈতিক বিজয় নয় বরং বাজার খোলা থাকা। সন্তানদের স্কুলে যাওয়া আর রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমানোর অধিকার।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র