03/15/2026 ‘শিক্ষাবিদ শব্দের অপপ্রয়োগে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অদৃশ্য সংকট ও ভ্রান্তি —উপাধির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত শিক্ষাবিদ
Dr Mahbub
১৫ March ২০২৬ ১৯:৫০
— অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক
বাংলাদেশে ‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটির ব্যবহার অনেক সময় নির্বিচারে করা হয়। অথচ শিক্ষাবিদ হওয়া কেবল অভিজ্ঞতা বা শিক্ষকতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক জ্ঞান, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ। এই লেখায় ‘শিক্ষাবিদ’ পরিচয়ের প্রকৃত অর্থ, এর অপপ্রয়োগের সামাজিক কারণ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক শব্দ অলংকাররূপে ব্যবহৃত হতে হতে তাদের প্রকৃত অর্থ হারাতে বসেছে। উদাহরণস্বরূপ, কখনো দেখা যায় ‘চিকন আলী’ নামটি এমন কারও জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যিনি বাস্তবে মেদবহুল। ড. আব্দুল লতিফের “নামে কি আসে যায়” গ্রন্থে এ ধরনের সামাজিক বাস্তবতার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।
নাম বা বিশেষণের ব্যবহার কেবল ভাষাগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সামাজিক অর্থ ও পেশাগত পরিচয়ের প্রশ্ন। বিশেষত কোনো নির্দিষ্ট পেশার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উপাধি বা বিশেষণ যথার্থতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
বিখ্যাত দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার বলেছেন, “How often misused words generate misleading thoughts.” অর্থাৎ, একটি শব্দের বারবার অপব্যবহার মানুষের চিন্তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। আমাদের সমাজে ‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটির যথেচ্ছ ব্যবহার ঠিক এমনই এক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণাও অনেক সময় ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে।
আমার এই লেখার মূল প্রশ্ন হলো—“শিক্ষাবিদ হওয়া কি এত সহজ?” শুধু শিক্ষিত হলেই কি কেউ শিক্ষাবিদ হয়ে যান? কিংবা শিক্ষক হলেই কি তাকে শিক্ষাবিদ বলা যায়?
উপাধির অপপ্রয়োগ ও একাডেমিক পরিচয়ের সংকট
আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা খ্যাতিমান শিক্ষককে সহজেই ‘শিক্ষাবিদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যদিও তাদের অনেকেরই শিক্ষাবিজ্ঞানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। এই প্রবণতার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও আমার রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে আমি যখন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তখন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “শিক্ষাবিজ্ঞানে ডিগ্রি ছাড়া শিক্ষাবিদ নয়।”
সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক বিশিষ্ট শিক্ষক, যিনি পরবর্তীতে একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও হয়েছিলেন, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আমি তাঁকে স্বাগত বক্তব্যে ‘বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী’ হিসেবে সম্বোধন করি। পরে তিনি আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন—“আমি কি শিক্ষাবিদ নই?” তখন আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বলেছিলাম, “স্যার, আপনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ। আপনার গবেষণা ও অবদান সেই ক্ষেত্রেই অসাধারণ। তাই আপনাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলাই যথার্থ; শিক্ষাবিদ বলা নয়।”
আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক রচনা, শিক্ষানীতি নির্ধারণ বা কারিকুলাম উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এমন ব্যক্তিদের প্রভাব থাকে, যাদের মূল বিশেষজ্ঞতা অন্য কোনো বিষয়ে—যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অন্য কোনো শাস্ত্র। তারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিশিষ্ট হতে পারেন, কিন্তু সে কারণে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষাবিদ হয়ে যান না। যখন কেউ নিজের মূল একাডেমিক ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে শিক্ষাবিদ পরিচয় গ্রহণ করেন, তখন এক ধরনের তাত্ত্বিক পরিচয় সংকট (identity crisis) তৈরি হয়। অর্থাৎ, তিনি নিজের প্রকৃত বিশেষজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে অন্য একটি পরিচয়ের স্বীকৃতি দাবি করছেন।
Listen to the song and enjoy the music that complements this article. 🎵
বাস্তবে আমরা দেখেছি, অনেকেই নিজের নামের আগে ‘শিক্ষাবিদ’ উপাধি যুক্ত হলে আপত্তি জানান না; বরং নীরবে তা গ্রহণ করেন। এর পেছনে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দুই ধরনের কারণ কাজ করে। একদিকে শিক্ষা পেশাটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে বিবেচিত হওয়ায় অনেকেই নিজেদের মর্যাদা বাড়াতে এই পরিচয় ব্যবহার করতে আগ্রহী হন। অন্যদিকে গণমাধ্যমের কিছু অজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের একাডেমিক ক্ষেত্র সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণে অনেক সময় ভুলভাবে এই উপাধি ব্যবহৃত হয়।
এর ফলে একটি বড় ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়। যারা সত্যিকার অর্থে শিক্ষাবিজ্ঞানে অধ্যয়ন করেছেন এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে এই বিষয়কে জীবনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তারা অনেক সময় আড়ালে পড়ে যান। তথাকথিত শিক্ষাবিদদের প্রভাব ও সামাজিক অবস্থানের কারণে প্রকৃত শিক্ষাবিদদের কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, সমাজ এবং সর্বোপরি শিক্ষাব্যবস্থা।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করা প্রয়োজন। ইতিহাসে এমন অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিজ্ঞানের ডিগ্রি ছাড়াও শিক্ষাচিন্তায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। যদিও তার শিক্ষাবিজ্ঞানে আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিল না, তবু শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা এবং তার শিক্ষাদর্শনের মাধ্যমে তিনি এক অনন্য শিক্ষাচিন্তার ধারার সূচনা করেছিলেন। কিন্তু এই উদাহরণটি বোঝার জন্য আমাদের সময় ও সমাজের পরিবর্তনকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
একসময় অনেক পেশার ক্ষেত্রেই প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির গুরুত্ব এতটা কঠোর ছিল না। যেমন আইন পেশায় একসময় ‘মুক্তার’ নামে পরিচিত ব্যক্তিরা ডিপ্লোমা নিয়ে আদালতে আইনচর্চা করতেন। এমনকি মহাত্মা গান্ধী বা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সময়েও আইন পেশায় প্রবেশের পথ বর্তমান সময়ের মতো কঠোর ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি পেশায় বিশেষায়িত শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার গুরুত্ব বেড়েছে।
আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অধিকতর দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞতা নিশ্চিত করার জন্য প্রায় সব পেশাতেই নির্দিষ্ট একাডেমিক মানদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে। শিক্ষাবিদ শব্দটির ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। তাই একবিংশ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
শিক্ষক হলেই কি শিক্ষাবিদ?
২০০৮ সালে The Stanford Encyclopedia of Philosophy-এ প্রকাশিত Philosophy of Education শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিক্ষা (education) নিয়ে মানুষের ভাবনা এবং শিক্ষণ (teaching) কার্যক্রম মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন গবেষণায় শিক্ষকতাকে পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম পেশা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে— “শিক্ষক হলেই কি তিনি শিক্ষাবিদ?”
বাস্তবে শিক্ষকতা এবং শিক্ষাবিদ পরিচয় এক বিষয় নয়। অনেক সময় দেখা যায়, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার কারণে বা শিক্ষা বিষয়ে মতামত দেওয়ার কারণে কেউ কেউ অবচেতনভাবে নিজেকে শিক্ষাবিদ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়।
উদাহরণস্বরূপ, অনেক সময় ‘কোনো নাম বা টারমিনোলজি’ সামাজিক অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারনে এমনভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়, যার সাথে প্রকৃত অর্থের বাস্তব কোন সংযোগই থাকে না। এই ভ্রান্তি থেকে মুক্তি জ্ঞানের বিকাশের জন্য অতীব জরুিরি। কেননা কোনো কোনো নাম বা টারমিনোলজি’ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বিশেষ করে তার ইটিওলজি বা বুৎপত্তিগত অর্থ, প্রয়োগ, তার যথার্থতা ও প্রাসঙ্গিকতা বিচার করা প্রয়োজন —বিশেষ করে যখন তা কোনো পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
ধরা যাক, কোনো গ্রামের একজন নিরক্ষর ব্যক্তি যদি তার সন্তানের শিক্ষার বিষয়ে চিন্তা করেন, তাহলে যুক্তির খাতিরে তিনিও বলতে পারেন যে তিনি শিক্ষা নিয়ে ভাবেন। দার্শনিক জন লকের মতে, মানবশিশু জন্মগ্রহণ করে “illiterate and innumerate” অবস্থায়, এবং প্রায় সব পিতামাতাই সন্তানকে সমাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ও শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সকল পিতামাতাকে ‘শিক্ষাবিদ’ বলা যায়। শিক্ষা নিয়ে ভাবনা থাকা আর শিক্ষাবিজ্ঞানের একজন বিশেষজ্ঞ হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রায়ই বলেন— “পৃথিবীর সবাই শিক্ষিত হতে পারে, শিক্ষক হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে সবাই শিক্ষাবিদ নয়।”
এই ভুল ধারণা তৈরির পেছনে সমাজ ও পরিবেশের প্রভাবও কম নয়। লেভ ভাইগোটস্কির সামাজিক গঠনবাদ (social constructivism) তত্ত্ব অনুযায়ী, সামাজিক বাস্তবতাই অনেক সময় ধারণা ও পরিচয় নির্মাণ করে। আমাদের দেশে গণমাধ্যমের অসতর্ক ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার কারণে ‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটির একটি ভুল সামাজিক নির্মাণ তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন এর সঠিক ব্যাখ্যা ও পুনর্গঠন।
শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষায় ডিগ্রিধারী: পার্থক্য কোথায়?
‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই শিক্ষাবিদ বা educationist হতে হলে শিক্ষা বিজ্ঞানের ওপর গভীর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়।
শিক্ষা বিস্তারে সাধারণত দুটি গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—Professional Teachers এবং Dedicated Amateurs।
Professional teachers হতে গেলে শিক্ষাবিজ্ঞানের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে dedicated amateurs শিক্ষার প্রসারে ব্যক্তিগত আগ্রহ ও উদ্যোগের মাধ্যমে অবদান রাখেন। উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাদের ভূমিকা ও পরিচয় এক নয়।
জন ডিউই তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Democracy and Education (১৯১৬)-এ প্লেটোর দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন—“Plato's starting point is that the organization of society depends ultimately upon knowledge of the end of existence…” অর্থাৎ, সমাজকে সংগঠিত করতে হলে মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এই লক্ষ্য উপলব্ধি করার জন্য প্রশিক্ষিত মন এবং শিক্ষার ওপর গভীর অধ্যয়ন অপরিহার্য। সেই কাজটি করেন প্রকৃত শিক্ষাবিদেরা। শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা গবেষণা ছাড়াই কেউ যদি নিজেকে শিক্ষাবিদ দাবি করেন, তাহলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদার এক ধরনের বিকৃত প্রকাশ—যাকে বলা যায় status quo-এর অপব্যবহার।
কাকে শিক্ষাবিদ বলা যায়?
আরেকটি মৌলিক প্রশ্ন, শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাথমিক ডিগ্রি ছাড়া কাউকে কী শিক্ষাবিদ বলা যায়? এর সরাসরি উত্তর না। শিক্ষাবিদ পরিচয়টি কেবল সামাজিক সম্মান বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষাবিজ্ঞানের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত জ্ঞান। আধুনিক পৃথিবীতে প্রতিটি পেশারই একটি একাডেমিক ভিত্তি রয়েছে। যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া কাউকে চিকিৎসক বলা যায় না, আইনশাস্ত্রে এলএলবি ছাড়া কেউ আইনজীবী হতে পারেন না, তেমনি শিক্ষাবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্ব, গবেষণা পদ্ধতি, কারিকুলাম উন্নয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষামনোবিজ্ঞান এবং শিক্ষানীতির মতো বিষয়গুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে শিক্ষাবিদ বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ শিক্ষাবিদ কেবল শিক্ষক নন; তিনি শিক্ষাব্যবস্থার দর্শন, নীতি, কাঠামো এবং পদ্ধতিগত উন্নয়নের একজন বিশেষজ্ঞ। শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাথমিক ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়েই একজন ব্যক্তি এই জ্ঞানভিত্তির সঙ্গে পরিচিত হন এবং বৈজ্ঞানিকভাবে শিক্ষা বিশ্লেষণ ও উন্নয়নের সক্ষমতা অর্জন করেন। তাই শিক্ষাবিজ্ঞানে মৌলিক ডিগ্রি ব্যতীত কাউকে শিক্ষাবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে তা শুধু শব্দের অপব্যবহারই নয়, বরং শিক্ষাবিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র একাডেমিক শাখা হিসেবে তার মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে।
শিক্ষাবিদ শব্দের সঠিক ব্যবহার
‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হিসেবে educationalist নাকি educationist—কোনটি অধিক গ্রহণযোগ্য, এ নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা যায়। Cambridge Advanced Learner’s Dictionary & Thesaurus অনুসারে, educationalist বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যার শিক্ষানীতি, শিক্ষাদর্শন এবং শিক্ষণ-পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের জ্ঞান রয়েছে। অর্থাৎ, এই শব্দটি কেবলমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যারা শিক্ষাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়ন ও গবেষণা করেছেন।
বাংলাদেশে দুঃখজনকভাবে ‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটির যথেচ্ছ ব্যবহার প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক সময় যথাযথ বিবেচনা ছাড়াই ব্যক্তির নামের আগে ‘শিক্ষাবিদ’ উপাধি ব্যবহার করা হয়। অথচ শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা গভীর গবেষণার অভাব থাকা সত্ত্বেও এই উপাধি ব্যবহার করা হলে তা শুধু শব্দের অপপ্রয়োগই নয়, বরং সমাজে একটি বিভ্রান্তিকর ধারণাও তৈরি করে। তাই ‘শিক্ষাবিদ’ শব্দটির যথাযথ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
মিডিয়া ও সামাজিক বিভ্রান্তি
বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়, টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা সংবাদপত্রে অনেকের নামের আগে নির্বিচারে “বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ” শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অথচ তাদের অনেকেরই শিক্ষাবিজ্ঞানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। কেউ যদি সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে যুক্ত না থেকেও সেই পেশার বিশেষণ ব্যবহার করে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন, তাহলে তা অনেক সময় মানসিক দৈন্যতার বহিঃপ্রকাশ। উপনিবেশিক ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে আমাদের সমাজে অনেক সময় নিজের পরিচয়কে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতার ফলে প্রকৃত শিক্ষাবিদরা অনেক সময় আড়ালে থেকে যান এবং নীতি নির্ধারণের জায়গায় জায়গা করে নেন এমন ব্যক্তিরা, যাদের শিক্ষাবিজ্ঞানের ওপর মৌলিক প্রশিক্ষণ নেই।
হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’
একজন হাতুড়ে ডাক্তারকে দিয়ে যদি কোনো রোগীর ওপেন হার্ট সার্জারি করানো হয়, তাহলে তার ফলাফল কী হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন নয়। দুঃখজনকভাবে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই—এমন অনেক ব্যক্তিকে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ বা সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিকল্পনা প্রণয়ন হয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক হতে হলে যেমন এমবিবিএস ডিগ্রি, ইন্টার্নশিপ এবং বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তেমনি শিক্ষাবিদ হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
শিক্ষাবিদ তৈরি হওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক পথ
বাংলাদেশে শিক্ষাবিদ তৈরির জন্য প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IER) । এখানে শিক্ষাবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবিজ্ঞানের ওপর উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়সমূহে শিক্ষাবিজ্ঞানে সম্মান ও স্নাতোকোত্তর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই প্রোগ্রামগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাধ্যতামূলক স্কুল ইন্টার্নশিপ, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব শিক্ষা পরিবেশে কাজ করে তাত্ত্বিক জ্ঞানকে ব্যবহারিক দক্ষতায় রূপান্তর করেন। প্রতি বছর দেশে শিক্ষাবিজ্ঞানে শত শত গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, শিক্ষাব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ বা কারিকুলাম উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে তাদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
কেন এই ভ্রান্তি?
এই ভ্রান্তির পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করে। প্রথমত, একটি সামাজিক কারণ রয়েছে। আমাদের সমাজে শিক্ষা পেশা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে বিবেচিত। ফলে অনেকেই সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের গুরুত্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের ‘শিক্ষাবিদ’ হিসেবে পরিচয় দিতে আগ্রহী হন। এই প্রবণতার কারণে প্রকৃত অর্থে শিক্ষাবিদ না হয়েও অনেক ক্ষেত্রে এই উপাধির ব্যবহার দেখা যায়। দ্বিতীয়ত, রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক অজ্ঞতা। গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ এবং সাধারণ মানুষের অনেকেই শিক্ষাবিজ্ঞানের বিস্তৃত একাডেমিক ক্ষেত্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। শিক্ষাবিজ্ঞান যে একটি স্বতন্ত্র ও গভীর গবেষণাভিত্তিক শাস্ত্র, যার নিজস্ব তত্ত্ব, পদ্ধতি এবং একাডেমিক মানদণ্ড রয়েছে—এই বিষয়টি অনেক সময় যথাযথভাবে উপলব্ধি করা হয় না। ফলস্বরূপ, প্রকৃত শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ শিক্ষক—এই দুই পরিচয়ের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো পেশার সঙ্গে বাস্তবিকভাবে সংশ্লিষ্ট না থেকেও সেই পেশার বিশেষণ বা উপাধি ব্যবহার করে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন, তবে তা মূলত মানসিক দৈন্যতারই বহিঃপ্রকাশ। উপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস এবং সামাজিক অবহেলার প্রভাব আমাদের সমাজে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে সুযোগ পেলেই নিজেকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক সময় প্রকৃত যোগ্যতা বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছাড়াই উচ্চ মর্যাদাসূচক পরিচয় ধারণ করার এই প্রবণতা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
শিক্ষাবিদ হওয়া কি এত সহজ?
শিক্ষাবিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় প্রশ্ন জাগে—শিক্ষাবিদ হওয়া কি এত সহজ? উত্তর হচ্ছে, শিক্ষাবিদ হয়ে ওঠা কোনো সহজ বিষয় নয়; এর জন্য বহু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। যেমন আগুনে পুড়িয়ে এবং কষ্টিপাথরে ঘষে স্বর্ণের খাঁটিত্ব যাচাই করা হয়, তেমনি একজন প্রকৃত শিক্ষাবিদ হয়ে উঠতে হলে দীর্ঘ অধ্যয়ন, অনুশীলন এবং আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শিক্ষাবিজ্ঞানকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে এর তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং সর্বোপরি সমাজ, সংস্কৃতি ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে শিক্ষাকে খাপ খাওয়ানোর মতো সূক্ষ্ম বিশ্লেষণী মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই সক্ষমতা অর্জনের জন্য শিক্ষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় অধ্যয়ন করতে হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা বিজ্ঞানে ডিগ্রি বা স্বীকৃতি অর্জন করতে হয়।
একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে যতই জানুন বা চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে যতই দক্ষ হোন না কেন, যদি তার এমবিবিএস বা চিকিৎসাশাস্ত্রে মৌলিক ডিগ্রি না থাকে, তবে তাকে চিকিৎসক বলা যায় না এবং নামের আগে ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে কেউ দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে শিক্ষা, শিক্ষার্থী বা সমাজ সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। কিন্তু শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা একাডেমিক স্বীকৃতি না থাকলে তাকে ‘শিক্ষাবিদ’ বলা যুক্তিসঙ্গত নয়।
বাস্তবে শিক্ষক হওয়া এবং শিক্ষাবিদ হওয়া এক বিষয় নয়। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে নানা ধরনের শিক্ষক বিদ্যমান—লজিং মাস্টার, গৃহশিক্ষক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পণ্ডিত বা মৌলভী—সবাই কোনো না কোনোভাবে শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি পরিবারে মা-ও সন্তানের প্রথম শিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিশুর মনস্তত্ত্ব বোঝা, তাকে হাতে খড়ি দেওয়া এবং শিক্ষার প্রথম ধাপ শুরু করানোর ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও আমরা কখনো পত্রিকার পাতায় কাউকে ‘বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ—অমুকের মা’ বলে উল্লেখ করি না। কারণ ‘শিক্ষাবিদ’ এমন একটি উপাধি, যার সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু একাডেমিক মানদণ্ড ও পেশাগত যোগ্যতা জড়িত।
এদেশে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক হওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল—এমন ধারণাও সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এখানে আদর্শ বা যোগ্য শিক্ষকতার কথা বলা হচ্ছে না; বরং সাধারণ বাস্তবতার কথা বলা হচ্ছে। অনেক সময় দেখা গেছে, কেউ পড়াশোনা শেষ করার পর অন্য কোনো চাকরি না পেয়ে পারিবারিক বা স্থানীয় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ফলে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের পথ তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও, তা কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষাবিদ করে তোলে না।
শেষ প্রতিফলন
শিক্ষাবিদ হওয়া সহজ নয়। এটি অর্জনের জন্য শিক্ষাবিজ্ঞানের তত্ত্ব, গবেষণা এবং প্রয়োগ সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি অধ্যয়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন—শিক্ষাবিদ শব্দটির সঠিক ব্যবহার, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির কাঠামো এবং শিক্ষা নীতি নির্ধারণে প্রকৃত শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্তি। চিকিৎসা পেশায় যেমন বিএমডিসি রয়েছে, তেমনি শিক্ষাবিদদের পেশাগত মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলাও সময়ের দাবি। কারণ শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষেত্র। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব এমন মানুষের হাতে থাকা উচিত, যারা শিক্ষাবিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে শিক্ষাবিদ হয়ে উঠেছেন।
লেখক: ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
#শিক্ষাবিদ #শিক্ষাবিজ্ঞান #শিক্ষাব্যবস্থা #শিক্ষা_সংস্কার #অধিকারপত্র_শিক্ষা_সংস্কার_ধারাবাহিক #EducationPolicy #AcademicIntegrity #EducationReform #BangladeshEducation #Educationist