04/06/2026 মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ ডলার, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য: সংসদে অর্থমন্ত্রী
Special Correspondent
৬ April ২০২৬ ১৭:৩৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের মাইলফলকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যের বরাতে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা। উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতির আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরে অর্থনীতির আকার ৪৫০ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারে।
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির মহাপরিকল্পনা
অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কেবল একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে—
বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন: বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা সহজীকরণ এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র: প্রথাগত খাতের বাইরে 'ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি' এবং 'স্পোর্টস অর্থনীতি'কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসংস্থান: আইটি, নির্মাণ, সেবা এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রবাস আয়ে জোর
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতের বিকাশে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কিছু অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র