04/10/2026 যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৫০ ছাড়াল
odhikarpatra
৯ April ২০২৬ ২১:৫৩
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ১০০টিরও বেশি হামলা চালানো হয় রাজধানী বেইরুতসহ দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে। হামলায় বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দাবি করেছে, লেবাননও এই চুক্তির আওতায় ছিল। তবে ইসরায়েল বলছে, তাদের হামলা যুদ্ধবিরতির বাইরে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের ঘটনাকে “আলাদা সংঘর্ষ” হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলের অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার কারণে দেশটির অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের দাবি, যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের প্রতিক্রিয়া। ইরান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-তে আবারও অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘসহ ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে এই হামলা মূলত বৃহত্তর ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে তারা শুধুমাত্র হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সবমিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির পরও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বেড়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংঘাত নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয় কিনা, নাকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।