04/14/2026 বাঙালি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ: রমনার বটমূলে ষাট পেরিয়ে ছায়ানটের বর্ষবরণ
Special Correspondent
১৩ April ২০২৬ ২৩:৩৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় ভৈরবী রাগের মূর্ছনা আর শতকণ্ঠে এসো হে বৈশাখ এই চেনা সুরেই নতুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাজধানী। অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন আবহে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠিত হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতি অনুষ্ঠান। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য থাকছে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
রমনার এই বটমূলে বর্ষবরণের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালে (১৩৭৪ বঙ্গাব্দ)। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংস্কৃতিক দমনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই ছায়ানট এই অশ্বত্থতলায় আয়োজন করেছিল ভোরের এই গান। সেই থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া প্রতি বছরই এই অনুষ্ঠানটি ঢাকার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়া
বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠান শুরু হয় ভোর সোয়া ৬টায়। ভোরের স্নিগ্ধতায় শিল্পীরা পরিবেশন করবেন শাস্ত্রীয় রাগালাপ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠান শুরু হবে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে। এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান স্রষ্টার গান এবং লোকসংগীত দিয়ে। এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলের গান এবং লোকগীতিতে মুখরিত হয়ে ওঠবে পুরো রমনা উদ্যান। গান, কবিতা আবৃত্তি এবং কথামালার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির বার্তা। অন্ধকারকে দূর করতে যেমন আলো প্রয়োজন তেমনি অপশক্তি ও ভয়কে জয় করতে প্রয়োজন সুরের ঐক্য। আমরা আমাদের শেকড়কে আঁকড়ে ধরেই এগিয়ে যেতে চাই।
ভয় জয় করার দীর্ঘ পথ
২০০১ সালের নৃশংস বোমা হামলার বিভীষিকা কিংবা সময়ের নানা প্রতিকূলতা কোনো কিছুই থামাতে পারেনি রমনার এই আয়োজনকে। আয়োজকরা জানান, ২০২৬ সালের এই আয়োজনে তারা ভয়কে জয় করার সংকল্প নিয়ে এসেছেন। এটি কেবল একটি গান বা নাচের অনুষ্ঠান নয় বরং এটি বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের একটি দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন।
নিরাপত্তা ও জনসমাগম
ভোর হওয়ার আগেই হাজারো মানুষ সাদা-লাল পোশাক পরে সমবেত হতে শুরু করেন রমনা এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকলেও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে কোনো কমতি ছিল না। মুড়ি-মুড়কি আর পান্তা-ইলিশের আমেজে সাধারণ মানুষ বরণ করে নেয় নতুন বাংলা বছরকে। ছায়ানটের এই প্রভাতি অনুষ্ঠান কেবল একটি সংগঠনের আয়োজন নয় বরং এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুরের মায়াজালে নতুন বছর সবার জন্য মঙ্গল ও শান্তি বয়ে আনুক এই প্রত্যাশায় শেষ হবে এবারের রমনার বর্ষবরণ।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র