04/26/2026 দেশের ক্রিকেটে কালো অধ্যায়: দুই আসিফের আক্রোশে বিশ্বকাপ বর্জন ও বিসিবি দখল
Special Correspondent
২৬ April ২০২৬ ১৫:৩০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত সময়কালকে এক কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই প্রভাবশালী ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং আসিফ নজরুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সরাসরি হস্তক্ষেপে দেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিকভাবে কলঙ্কিত ও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপ বর্জন: নিরাপত্তার অজুহাত ও ৩৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। কিন্তু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অজুহাতে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশকে এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখেন। শুরুতে তিনি বিষয়টিকে সরকারি সিদ্ধান্ত বললেও পরবর্তীতে দায় চাপান ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর। তার এই রহস্যময় ৩৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন ক্রিকেটারদের স্তম্ভিত করে দেয়। ঘটনার নেপথ্যে ছিল আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা। বিসিবি যখন আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ৩ জানুয়ারি আসিফ নজরুলের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সব সমীকরণ বদলে দেয়। তিনি সাফ জানান, নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলা উচিত হবে না। এমনকি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল আলমের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, ভারত ছাড়া অন্য দেশে খেলা হলেই কেবল সরকারি সহায়তা মিলবে। শেষ পর্যন্ত আইসিসিতে কোনো দেশের সমর্থন না পাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।
বিসিবি নির্বাচনে নগ্ন হস্তক্ষেপ ও বুলবুলের উত্থান
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৩৪টি ক্লাব অংশ নেয়নি। অভিযোগ আছে উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ৪৩টি জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর মনোনীত করা হয়। ফারুক আহমেদকে সরিয়ে তার ইচ্ছায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সভাপতির আসনে বসানো হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন পুরোপুরি ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়। বিসিবির প্রবীণ সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন দুই ক্রীড়া উপদেষ্টার আক্রোশের শিকার হয়েছে দেশের ক্রিকেট। তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে এগোতে থাকা ক্রিকেট আজ থমকে দাঁড়িয়েছে। এর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
সাকিবের ক্যারিয়ার নিয়ে দম্ভোক্তি
দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে দেশের মাটিতে খেলতে না দেওয়া এবং জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করার পেছনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত জেদ কাজ করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে সাকিবকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়া যাবে না মর্মে বিসিবিকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। একটি টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি সাকিবের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার প্রকাশ্য দম্ভোক্তিও করেছিলেন।
স্থবির ক্রীড়াঙ্গন ও বর্তমান তদন্ত
আসিফ মাহমুদ তার মেয়াদে প্রায় সব ক্রীড়া ফেডারেশন ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করায় পুরো ক্রীড়াঙ্গনে এক ধরণের স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি এই অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখছে। তবে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসিফ মাহমুদ এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হননি। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে জাতীয় গৌরব ক্রিকেটকে যেভাবে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট আরও গভীর সংকটে পড়বে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই কালো অধ্যায় কাটিয়ে উঠতে এখন নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতাই একমাত্র পথ।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
মো: সাইদুর রহমান (বাবু)
বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকারপত্র