05/01/2026 বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিল চীন
odhikarpatra
১ May ২০২৬ ১৭:৫৫
অধিকারপত্র ডটকম আন্তজার্তিক
ঢাকা, ১ মে ২০২৬
চীনের রাজধানী বেইজিং-এ ড্রোন বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরটিতে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া দেওয়া বা বাইরে থেকে এনে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ড্রোন মালিকদের বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ডিভাইস পুলিশে নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া ঘরের বাইরে ড্রোন ওড়াতে হলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ব্যবহারকারীদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ এবং আইনসংক্রান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তও আরোপ করা হয়েছে।
চীন সরকার ড্রোন ও ‘ফ্লাইং ট্যাক্সি’ প্রযুক্তিকে তাদের কৌশলগত ‘লো-অল্টিটিউড ইকোনমি’র গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাত থেকে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার) আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি।
যদিও চীনের অন্যান্য শহরে খাদ্য সরবরাহ, কৃষিকাজ ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, তবে বেইজিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে শহরের ভেতরে ড্রোন আনা বা বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, মেরামতের জন্য শহরের বাইরে পাঠানো ড্রোন মালিককেই সরাসরি উপস্থিত হয়ে সংগ্রহ করতে হবে—কুরিয়ারের মাধ্যমে নয়।
তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমন, জরুরি উদ্ধার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু সাধারণ বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়।
গত কয়েক বছর ধরে ড্রোন ব্যবহারে ধাপে ধাপে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে চীন। এরই ধারাবাহিকতায় মার্চ মাসে অনুমোদিত এই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিম্ন-উচ্চতার আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কঠোর নিয়ম চীনের বিশাল ড্রোন বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতা DJI-এর বেইজিং শোরুমগুলো থেকে পণ্য সরিয়ে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে চীনে নিবন্ধিত ড্রোনের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। নতুন বিধিনিষেধ প্রযুক্তিপ্রেমী ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।