05/11/2026 ববিতে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস শাটডাউন
Special Correspondent
১১ May ২০২৬ ১৫:০০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক সমাজ। একই সঙ্গে সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সবকিছু ‘শাটডাউন’ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রক্টর ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্য মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছার।
সংকটের মূলে পদোন্নতি ও সিন্ডিকেট সভা
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ৩০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার ও ডিনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে হঠাৎ নোটিশ দিয়ে শনিবার এজেন্ডাবিহীন একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকেন উপাচার্য। শিক্ষকদের দাবি, ওই সভায় অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক জানান, সিন্ডিকেট সভায় ন্যায্য সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে শাটডাউন ও উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গণপদত্যাগ ও ক্ষোভ
প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রক্টর ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, উপাচার্যের কার্যক্রমে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা হতাশ। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ না করে সবার হক নষ্ট করছেন। তাই নৈতিক অবস্থান থেকে পদত্যাগ করেছি। অন্যদিকে, সিন্ডিকেট সদস্য মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছার জানান, শিক্ষকদের দাবির পক্ষে কথা বললেও তা গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন। যদিও উপাচার্য দাবি করেছেন, তানভীর কায়ছার অসুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসার কারণে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
উপাচার্যের বক্তব্য
সংকট প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সিন্ডিকেট সভায় সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন সংবিধি প্রণয়ন করে পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। এরপরও কেন এই চরম কর্মসূচি নেওয়া হলো, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছুটা সময় লাগছে।
সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চলমান মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তীব্র সেশনজটের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত এই প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এক নজরে বর্তমান অবস্থা:
কর্মসূচি: অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ (শাটডাউন)।
উপাচার্য: ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা (অবাঞ্ছিত ঘোষণা)।
পদত্যাগ: প্রক্টর ও একজন সিন্ডিকেট সদস্য দায়িত্ব ছেড়েছেন।
মূল দাবি: ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতি।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র