05/28/2026 বনের পশু নয়, কোরবানি হোক মনের পশুর
odhikarpatra
২৮ May ২০২৬ ০৬:১৩
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬ অধিকার পত্র ডটকম
বিশেষ সম্পাদকীয়
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মশুদ্ধির এক মহান শিক্ষা। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই পশু কেনা, দাম, আকার কিংবা বাহ্যিক আয়োজন নিয়ে সমাজে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চোখে পড়ে। অথচ ইসলামের মূল শিক্ষা কখনোই লোক দেখানো নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আন্তরিক আত্মত্যাগই কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য।
কোরবানি শুধু একটি পশু জবাই করার নাম নয়। এটি মানুষের অন্তরের অহংকার, হিংসা, লোভ, স্বার্থপরতা ও কপটতাকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার এক মহৎ প্রতীক। মানুষ যদি নিজের ভেতরের পশুত্বকে দমন করতে না পারে, তবে শুধু বাহ্যিক পশু কোরবানি দিয়ে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়। তাই বলা হয়— বনের পশুকে কোরবানি করার আগে মনের পশুকে কোরবানি করা প্রয়োজন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতা। অর্থাৎ কোরবানির আসল মূল্যায়ন হয় নিয়ত ও আত্মত্যাগের মানসিকতায়। কিন্তু বর্তমান সমাজে অনেক ক্ষেত্রে কোরবানি হয়ে উঠছে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। কে কত বড় গরু কিনলো, কার আয়োজন কত জাঁকজমকপূর্ণ— এসব বিষয় যেন অনেকের কাছে ইবাদতের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইসলাম কখনো অপচয়, অহংকার কিংবা প্রদর্শনকে সমর্থন করে না। কোরবানি এমন একটি ইবাদত, যেখানে বিনয়, মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা নিহিত রয়েছে। ধনী-গরিব সবার মাঝে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তাই কোরবানি হোক আত্মশুদ্ধির উপলক্ষ, গরিব-দুঃখীর মুখে হাসি ফোটানোর উপলক্ষ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক পবিত্র মাধ্যম।
আজ আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের পশুকে কোরবানি করা। হিংসা, দুর্নীতি, অন্যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসততাকে ত্যাগ করতে না পারলে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য অর্জিত হবে না। বাহ্যিক চাকচিক্যের পরিবর্তে অন্তরের পরিশুদ্ধিই হওয়া উচিত প্রতিটি মুসলমানের প্রধান লক্ষ্য।
ঈদুল আজহার এই মহান শিক্ষাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়— কোরবানি মানুষের দেখানোর জন্য নয়, কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সেই চেতনায় যদি ব্যক্তি ও সমাজ পরিচালিত হয়, তবে কোরবানি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মানবিক ও নৈতিক সমাজ গঠনের শক্তিশালী অনুপ্রেরণায় পরিণত হবে।
মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ সম্পাদক ও প্রকাশ অধিকারপত্র ডটকম ও মাসিক আমাদের অধিকার পত্র