05/31/2026 গানারদের স্বপ্নভঙ্গ: টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরা পিএসজি
Special Correspondent
৩১ May ২০২৬ ০১:৫০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক পুসকাস অ্যারেনায় ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হলেন এক রোমাঞ্চকর মহাকাব্যের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখল ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলল লুই এনরিকের শিষ্যরা।
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে। রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে পরপর দু’বার এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জেতার অনন্য কীর্তি গড়ল প্যারিসের ক্লাবটি।
শুরুতেই হাভার্টজের চমক, আর্সেনালের লিড
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দুর্দান্ত করেছিল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। দীর্ঘ ২২ বছরের খরা কাটিয়ে সদ্যই প্রিমিয়ার লিগ জেতা গানাররা অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলতে নেমেছিল। ম্যাচের মাত্র ৬ষ্ঠ মিনিটেই পিএসজির রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলকে কাজে লাগিয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে নেন জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। কোণাকুণি এক জোরাল শটে পিএসজি গোলরক্ষক সাপানভের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
ম্যাচ ফ্যাক্ট: ২০১৫ সালের পর থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যে দল প্রথম গোল করেছে, তারাই শিরোপা জিতেছিল। তবে বুদাপেস্টের এই রাতে সেই সমীকরণ ওলটপালট করে দিল পিএসজি।
'পার্ক দ্য বাস' নীতি এবং পিএসজির আধিপত্য
গোল হজমের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় পিএসজি। প্রথমার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ বলের দখল রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ফরাসি ক্লাবটি। তবে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্সেনাল কোচ আর্তেতা রক্ষণাত্মক কৌশল (পার্ক দ্য বাস) বেছে নেন। হাভার্টজকে সামনে একা রেখে দলের বাকি ১০ জন নিচে নেমে পিএসজিকে রুখে দাঁড়ান। ফলে আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ ও গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার দৃঢ়তায় পিছিয়েই বিরতিতে যেতে হয় এনরিকের ছেলেদের।
পেনাল্টি থেকে দেম্বেলের সমতা
বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় পিএসজি। ম্যাচের ৬২ মিনিটে বাঁ প্রান্তে থাকা জিয়ান তারকা খভিচা কাভারাতসখেলিয়াকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৬৫ মিনিটে স্পট-কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে পিএসজিকে ১-১ সমতায় ফেরান ফরাসি উইঙ্গার উসমান ডেম্বেলে। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও দুই দলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকদের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে আর কোনো গোল হয়নি।
টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধ ও পিএসজির জয়োৎসব
নির্ধারিত ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ম্যাচের ফয়সালা গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে, যেখানে পিএসজি সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকারের সামনে ভেঙে পড়ে আর্সেনালের তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিরোধ।
টাইব্রেকার সমীকরণ:
পিএসজি (৪): রামোস, হাকিমি এবং বেরাল্ডো সফলভাবে গোল করেন। মেন্ডেসের শট সেভ করেন রায়া।
আর্সেনাল (৩): গিয়োকেরেস, ডুয়ে এবং ডেক্লান রাইস গোল করলেও তরুণ তারকা এজে বল পোস্টের বাইরে মারেন এবং ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল বারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দিলে শিরোপা নিশ্চিত হয় পিএসজির।
ঐতিহাসিক অর্জন ও সমর্থকদের উল্লাস
একই মৌসুমে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের সেরা হওয়ার যে স্বপ্ন আর্সেনাল দেখছিল, তা বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। অন্যদিকে, গতবারের শিরোপা জয়ের পর এবারও ট্রফি নিজেদের কাছে রেখে ইউরোপিয়ান ফুটবলের এলিট ক্লাবে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করল পিএসজি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই পিএসজির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থক মেতে ওঠেন বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে। লুই এনরিকের অধীনে এই রাতটি ফরাসি ক্লাবটির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র