06/01/2026 মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
odhikarpatra
৩১ May ২০২৬ ২২:৩৩
আন্তর্জাতিক ডেক্স | অধিকার পত্র ডটকম :
আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে। আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তর-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করবেন আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক দেওয়া হবে।
মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় নিহত হন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। একইসঙ্গে গত বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে।
বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারায় পরিচালিত বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারীসহ চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। মোট ১১৮টি দেশ ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।
২০০২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২৯ মে-কে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠার স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত বৃদ্ধি এবং সম্পদ সংকোচনের এই সময়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে টেকসই রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অতীত ও বর্তমানের সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী মাধ্যম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন শান্তিরক্ষা কর্মীকে ‘ক্যাপ্টেন এমবায়ে দিয়াগনে মেডেল ফর এক্সেপশনাল কারেজ’, ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘ইউএন উইমেন পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।