06/05/2026 ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিত্বও রাখতে চান খলিলুর
Special Correspondent
৪ June ২০২৬ ২২:২০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন না ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে দুই পদে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রায় ৪০ বছর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর একই সঙ্গে দুই পদ সামলানোর ঐতিহাসিক নজির স্মরণ করিয়ে দেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গত মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে এক বছরের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান।
এত তাড়াহুড়ো করবেন না
জাতিসংঘের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ছুটি নেবেন কি না বা পদ ছেড়ে দেবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ভাই, এত ব্যস্ত হইয়েন না। আমি কি এই (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর) দায়িত্ব ছেড়ে দেব? প্রশ্নটা কি সেটাই? এত তাড়াহুড়ো করবেন না। এর নজির আছে।
তিনি ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টেনে বলেন,হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাহেব যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন আমি তাঁর একান্ত সচিব ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি দুই পদেই পূর্ণকালীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। ওই সময়টা ছিল ইন্টারনেট-পূর্ব যুগ। কিন্তু আজ প্রযুক্তির কারণে নিরবচ্ছিন্নভাবে দুটো কাজই একসঙ্গে করা সম্ভব এবং এটা খুব স্বাভাবিক।
বর্তমান সভাপতির পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে ওঠা গুঞ্জন নাকচ করে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান সভাপতি জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দল গ্রিন পার্টি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকতে পারেননি, জাতিসংঘের দায়িত্বের কারণে নয়।
১০ বছরের রাস্তা ১০ সপ্তাহে পার, জয় উৎসর্গ ভবিষ্যতের কাছে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে এই ঐতিহাসিক বিজয়কে বাংলাদেশের এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয় বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি যদি এই সিদ্ধান্ত না নিতেন এবং দৃঢ়ভাবে, অবিচলভাবে ও বিরোধহীনভাবে আমাদের সমর্থন না করতেন, তাহলে ১০ বছরের এই রাস্তা আমরা ১০ সপ্তাহে অতিক্রম করতে পারতাম না।
বিজয়ী দলের নেপথ্য কারিগরদের ধন্যবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা, বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা আমরা যে টিম স্পিরিট নিয়ে কাজ করেছি, এই বিজয়ের পেছনে তাঁদের অবদান ছিল বিপুল।পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের এই ঐতিহাসিক বিজয়কে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কাছে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র