06/10/2026 ৩৭ মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ
odhikarpatra
১০ June ২০২৬ ১৯:৫১
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | সংসদ প্রতিবেদক অধিকার পত্র ডটকম
ঢাকা: দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা, সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সারাদেশে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসন-১১ এর সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার প্রথম চালু হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে। শুরুতে দেশের আটটি পুরোনো মেডিকেল কলেজে এ কার্যক্রম চালু করা হয়। পরবর্তীতে আরও ছয়টি মেডিকেল কলেজে সম্প্রসারণের মাধ্যমে মোট ১৪টি ওসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশে ১৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, ওসিসিগুলোতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা এবং পুনর্বাসনসহ সমন্বিত সেবা প্রদান করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ কর্মকর্তা, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, আইন কর্মকর্তা ও অন্যান্য সহায়ক কর্মীসহ ২২ জন প্রশিক্ষিত জনবল থাকার কথা।
মন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ৮১ হাজার ৯২৮ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩১ হাজার ৫৯৬ জন এবং অগ্নিদগ্ধ ৫৬৫ জন রয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সেবার আওতা ও সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টি জেলা সদর এবং ৬৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলা এবং পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের ধারণাকে আরও কার্যকর করতে এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)’। কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
এ সময় সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে বলেন, অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক ভয় ও চাপে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করেন না। এছাড়া জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা এখনও সীমিত।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে গণসচেতনতা আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী ক্লাব, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজন এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এর কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেবার পরিধি বৃদ্ধি, কুইক রেসপন্স টিমের সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।