07/30/2026 রাজপথের এক নীরব যোদ্ধার গল্প: আহত মো. মামুন হোসেন ভূঁইয়ার স্বীকৃতির অপেক্ষা
odhikarpatra
১৩ June ২০২৬ ১৯:৪১
অধিকারপত্র বিশেষ প্রতিবেদন│নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজপথের আন্দোলনে আহত হওয়ার দাবি, দীর্ঘ চিকিৎসা, একটি চোখের স্থায়ী ক্ষতি, আর্থিক দুর্দশা এবং সরকারি স্বীকৃতির অপেক্ষা—এই বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মো. মামুন হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার বিস্তারিত বিবরণ। প্রতিবেদনে তাঁর দাবি, চিকিৎসা নথি, আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিবরণ, সহকর্মীদের বক্তব্য এবং সরকারি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদকের নোটে স্পষ্ট করা হয়েছে যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আহত হওয়া এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সাক্ষাৎকারভিত্তিক, আর সরকারি স্বীকৃতি বা গেজেটভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের সঠিক শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নিয়ে এই অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদন নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা মো. মামুন হোসেন ভূঁইয়া আজও বিশ্বাস করেন—দেশের জন্য করা ত্যাগের প্রকৃত মূল্য একদিন অবশ্যই জাতি দেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া এই নেতা বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা, আর্থিক সংকট এবং চোখের গুরুতর সমস্যার মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক আদর্শে অটল রয়েছেন।
মোহাম্মদ মামুন হোসেন ভূঁইয়া বর্তমানে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বৃহত্তর সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর দাবি, জুলাই মাসের সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আহ্বানে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজপথে অংশ নেন এবং আন্দোলনের এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তাঁর ডান চোখ গুরুতরভাবে আহত হয়।
মামুন ভূঁইয়ার ভাষ্যমতে, আন্দোলনের দিন তিনি প্রেসক্লাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেগুনবাগিচা এবং হাইকোর্ট এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মুখেও তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা পিছু হটেননি। এক পর্যায়ে তাঁর ডান চোখে গুলি বা গুলির আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তিনি জানান, পরবর্তীতে তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে একাধিকবার চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং তাঁর চোখে অস্ত্রোপচারও হয়। বর্তমানে তাঁর দৃষ্টিশক্তি আগের মতো নেই এবং তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসাজনিত ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
মামুন ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন, আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনও সরকারি তালিকায় জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। তাঁর বক্তব্য, অনেক ব্যক্তি সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনে আহত হওয়া কিছু মানুষ এখনও স্বীকৃতির বাইরে রয়ে গেছেন। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন ছবি, ভিডিও এবং সহযোদ্ধাদের সাক্ষ্য তাঁর কাছে রয়েছে, যা তাঁর অংশগ্রহণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে মামুন ভূঁইয়া বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি মনে করেন, দেশের স্বার্থে করা ত্যাগ কখনোই বৃথা যায় না।
স্থানীয় রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুন দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। তাঁদের মতে, আন্দোলনে আহত হওয়ার পর তাঁর জীবনযাত্রা আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
মামুন ভূঁইয়ার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ তাঁর চিকিৎসা নথি, আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত আহত ব্যক্তিরা যথাযথ স্বীকৃতি ও প্রাপ্য সহায়তা পেলে তা দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, কারাজীবন ও স্বীকৃতির অপেক্ষা
মোহাম্মদ মামুন হোসেন ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয় আজকের নয়। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি বর্তমানে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতে বৃহত্তর সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম, গ্রেপ্তার এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
মামুনের দাবি, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন দশকেরও বেশি সময়ে তিনি মোট ১৭ বার কারাগারে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব মামলাই ছিল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলা। তাঁর কাছে কারাজীবন ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক বিশ্বাসের মূল্য হিসেবে তিনি এটিকে দেখেন। তিনি বলেন, আদর্শের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার পথ কখনো সহজ ছিল না, কিন্তু বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি কখনো সরে আসেননি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মামুন আরও দাবি করেন, দলীয় নেতৃত্বের আহ্বানে তিনি রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আন্দোলনের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর ডান চোখ গুরুতরভাবে আহত হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, সেই আঘাতের কারণে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে এবং এখনও তিনি চিকিৎসাধীন। এই শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় তাঁর পরিবারকে আর্থিকভাবেও চরম সংকটে ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে মামুনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ অন্য জায়গায়। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ না নিয়েও কিংবা প্রকৃতপক্ষে আহত না হয়েও কিছু ব্যক্তি সরকারি অনুদান, সহায়তা ও স্বীকৃতি পেয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, নিজের দাবি অনুযায়ী আন্দোলনে আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনও সরকারি গেজেটে জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তাঁর বিশ্বাস, একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক যাচাই-প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে প্রকৃত অংশগ্রহণকারী ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং প্রত্যেকেই তাঁদের ন্যায্য স্বীকৃতি লাভ করবেন।
মামুন জানান, আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ভিডিও, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং সহযোদ্ধাদের সাক্ষ্য তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর মতে, প্রকৃত ত্যাগীদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা শুধু ব্যক্তিগত ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে তথ্যভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি মানুষের ত্যাগ, সাহস, ক্ষত এবং প্রত্যাশারও ইতিহাস। সেই ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আবেগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ যাচাই। মো. মামুন হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন, যেখানে একজন রাজনৈতিক কর্মী নিজের আহত হওয়ার দাবি, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং স্বীকৃতির অপেক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে—যদি প্রকৃতভাবে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত কেউ স্বীকৃতির বাইরে থেকে যান, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, ইতিহাসের প্রতিও অবিচার হতে পারে। আবার অন্যদিকে, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া কোনো দাবিকে গ্রহণ করাও রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে অনুচিত। ফলে ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ হলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল সহায়তা প্রদান নয়; বরং প্রকৃত ঘটনার নির্ভুল নথিভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ইতিহাস নির্মাণ করা। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আহত হওয়া কিংবা আত্মত্যাগের প্রতিটি দাবির ক্ষেত্রে সমান মানদণ্ডে যাচাই নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন প্রকৃত দাবিদাররা তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সহায়তা পাবেন, অন্যদিকে অপব্যবহার ও বিতর্কেরও অবসান ঘটবে।
এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ যাচাই-প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, যেখানে চিকিৎসা নথি, হাসপাতালের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিও ও আলোকচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। যাচাই প্রক্রিয়ার মানদণ্ড, সময়সীমা এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তি জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হলে নাগরিক আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি যাচাই প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় গুরুতর শারীরিক জটিলতা, অক্ষমতা বা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাঁদের জন্য মানবিক ও চিকিৎসাসহায়তার একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
সবচেয়ে বড় কথা, ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন সম্ভব তখনই, যখন রাষ্ট্র, সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলো সত্যকে সত্য হিসেবেই মূল্যায়ন করবে। নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা যেমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও প্রমাণসমৃদ্ধ জাতীয় ইতিহাস নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে অংশগ্রহণের দাবি, শারীরিক ক্ষতি এবং দীর্ঘ চিকিৎসার ভার বহন করতে করতে আজ মোহাম্মদ মামুন হোসেন ভূঁইয়ার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা রাষ্ট্রের কাছে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায্য বিচার ও প্রাপ্য স্বীকৃতি চান।
মামুন ভূঁইয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার বিষয়ে তাঁর কাছে সংরক্ষিত চিকিৎসা নথি, হাসপাতালের রেকর্ড, আলোকচিত্র, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যাচাই করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। তিনি মনে করেন, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে রাষ্ট্র যেমন প্রকৃত দাবিদারদের সম্মান জানাতে পারবে, তেমনি ভবিষ্যতে এ ধরনের স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্কও কমে আসবে।
তাঁর ভাষায়, জীবনের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের প্রতি তাঁর বিশ্বাস হারাননি। তিনি আশা করেন, রাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং প্রমাণ, তথ্য এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে তাঁর বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। মামুন ভূঁইয়ার মতে, প্রকৃত আন্দোলনকারী ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; এটি একটি জাতির গণতান্ত্রিক ইতিহাসকে সততার সঙ্গে সংরক্ষণেরও অংশ। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানান, তাঁর উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে আইন ও নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।
(প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনে বর্ণিত আন্দোলনে অংশগ্রহণ, আহত হওয়া এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যগুলো মোহাম্মদ মামুন হোসেন ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ও তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। সরকারি স্বীকৃতি বা গেজেটভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।)
#রাজপথের_নীরব_যোদ্ধা #মামুন_হোসেন_ভূঁইয়া #জুলাই_আন্দোলন #আহত_যোদ্ধা #স্বীকৃতির_অপেক্ষা #গণতন্ত্র #মানবাধিকার #বাংলাদেশ #রাজনীতি #বিশেষ_প্রতিবেদন #অধিকারপত্র #তদন্তমূলক_সাংবাদিকতা #ন্যায়বিচার #সত্য_যাচাই #জনস্বার্থ—প্রকৃত তথ্য, নিরপেক্ষ যাচাই এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রকৃত ত্যাগীদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভব।