06/15/2026 দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরানো হবে যে প্রক্রিয়ায়
odhikarpatra
১৪ June ২০২৬ ২২:৩১
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক
অধিকারপত্র ডেস্ক:
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।”
দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন
দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের অনুমোদন নিয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়।
পরে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠালে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়। ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের তথ্য পায়।
দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুসারে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে।
এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং দুদক যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মামলার কপি
অভিযোগপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন
রেড নোটিশ সংক্রান্ত নথি
প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র
এসব নথি অনুমোদনের পর কূটনৈতিক মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপর দেশটির আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হতে পারে।
দুদকের মামলাগুলো কী নিয়ে?
দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন
সম্পদের তথ্য গোপন
পাসপোর্ট জালিয়াতি
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
দুদকের দাবি, তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে ৭৬ কোটিরও বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আলোচিত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে বেনজীর আহমেদ নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন। তিনি ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
র্যাবের সাবেক প্রধান হিসেবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত হন। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগ, সম্পদ জব্দ, আদালতের আদেশ এবং দেশত্যাগের ঘটনাগুলো তাকে জাতীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আরও গতি পায়। এরপরই ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরানো হবে যে প্রক্রিয়ায়
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। বাংলাদেশ সরকার ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চলমান মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
#বেনজীর_আহমেদ #সাবেক_আইজিপি #ইন্টারপোল #দুদক #দুবাই #প্রত্যর্পণ #বাংলাদেশ_পুলিশ #দুর্নীতি
কীওয়ার্ড: রেড নোটিশ, দুদক, দুর্নীতি মামলা, প্রত্যর্পণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ পুলিশ।