06/16/2026 দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে প্রবেশে বাধা: ভারতীয় দূতকে তলব করে বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ
Special Correspondent
১৫ June ২০২৬ ২১:১৫
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা। এ ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার (ডেপুটি হাইকমিশনার) পবন বাঁধে-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় উপ-হাইকমিশনারকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তলব করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর কাছে এই ঘটনার গভীর হতাশা ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে আজ সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং একই সঙ্গে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত
নয়াদিল্লিতে ১৫ ও ১৬ জুন অনুষ্ঠিত ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কমিটির (সিএসও) ২৮তম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের। এই লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও সার্ক (SAARC) ভিসা নিয়ে রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান। অভিযোগ রয়েছে কূটনৈতিক চিঠি এবং দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগেভাগেই এই সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে তাঁকে বাধা দেয়। রুটিন স্ক্রিনিংয়ের সময় একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) তাঁর নাম শনাক্ত হওয়ার অজুহাতে তাঁকে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আত্মসম্মান রক্ষার্থে দেশে প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘক্ষণ বিড়ম্বনা ও অনভিপ্রেত অপেক্ষার পর ভারতের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডা. জাহেদ উর রহমানকে শহরে প্রবেশের অনুমতি দেয় এবং সফর অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানায়। তবে বিমানবন্দরে এমন অপদস্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হওয়ার পর, আত্মসম্মানবোধের কারণে তিনি আর দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন। রোববার রাতে ঢাকা আসার সরাসরি কোনো ফ্লাইট না থাকায় তিনি শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে দেশে ফিরে আসেন।
কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এমন বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে আশা করা হয়েছিল নতুন সরকারের আমলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক শৈত্যতা কেটে যাবে, সেখানে বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার এই ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক অস্বস্তি তৈরি করল। ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র