06/20/2026 ফুটবলের জ্বর, ফাঁকা স্বপ্ন— বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির নীরব কাহিনী │সমস্যা প্রতিভার নয়, সমস্যাটি ব্যবস্থার।
Dr Mahbub
২০ June ২০২৬ ১৮:০২
অধিকারপত্র বিশ্বকাপ ক্যাচাল
বিশ্বকাপের জ্বরে পুড়ে বাংলাদেশ, অথচ বিশ্বকাপের মানচিত্রে নেই বাংলাদেশ—কার দায়? —বাংলাদেশে বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার উন্মাদনা, কোটি মানুষের আবেগ, রঙিন পতাকার উৎসব। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—বিশ্বকাপের মাঠে বাংলাদেশের নাম নেই কেন? কেপ ভার্দে, হাইতি, উজবেকিস্তান কিংবা জর্ডানের মতো ছোট বা সংকটময় দেশগুলো যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করছে, তখন ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ কেন এখনও বাছাইপর্বের প্রাথমিক ধাপেই আটকে আছে? এই অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী ফিচারে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামোগত সংকট, যুব উন্নয়নের ঘাটতি, লিগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাফুফের সুশাসন সংকট, ফিফা ও এএফসির সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বাস্তব চিত্র। গবেষণা, আন্তর্জাতিক তুলনা, পরিসংখ্যান ও নীতিগত বিশ্লেষণের আলোকে এই নিবন্ধ খুঁজে দেখেছে—বাংলাদেশের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন কি কেবল আবেগ, নাকি সঠিক পরিকল্পনা ও সংস্কারের মাধ্যমে একদিন তা বাস্তবে রূপ নিতে পারে?
আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দশটি আগ্নেয় দ্বীপের দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে চারশো ষাট কিলোমিটার দূরে এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো ফুটবল ঐতিহ্য ছিল না। ১৯৮৬ সালে ফিফার সদস্যপদ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিতো না। অথচ ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে নাম লিখিয়েছে। একই বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে হাইতি—ক্যারিবিয়ানের সেই দেশ যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাছাইপর্বের একটি ম্যাচও নিজেদের মাটিতে খেলতে পারেনি তারা। তবুও ৫২ বছরের বিরতি ঘুচিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরে।
অপরদিকে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়েও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে পারেনি বিশ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এশিয়ার বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড পেরোনোটাই যেন দুঃস্বপ্ন। গত ২৩ বছরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের জয় নেই। ১৯৮৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪০টি ম্যাচে মাত্র নয়টিতে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৪। অথচ এই দেশের মানুষ ফুটবলকে ভালোবাসে প্রাণের চেয়েও বেশি। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের লড়াইয়ে বিশ্বকাপ এলেই যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় বাংলাদেশ। তাহলে কেন এই বিচ্ছেদ? কেন মাঠের ফুটবল আর গ্যালারির উন্মাদনার মধ্যে এত ব্যবধান?
বাংলাদেশের ফুটবল ভালোবাসার ইতিহাস পুরনো। ঢাকার গলি থেকে গ্রামের মাঠ—সর্বত্রই ফুটবলের ছড়াছড়ি। বৈশ্বিক আসর এলেই পাড়ায় পাড়ায় জমে উঠে দল বেঁধে খেলা দেখার আয়োজন। কিন্তু এই ভালোবাসা কখনোই সুসংহত পরিকল্পনায় রূপ পায়নি। ফুটবল নিয়ে আমাদের আবেগ যেমন প্রবল, ফুটবল নিয়ে আমাদের ব্যবস্থাপনা তেমনই দুর্বল। আর এই ব্যবধানই হয়তো সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
কেপ ভার্দের দিকে তাকাই। তাদের জনসংখ্যা যেখানে সাড়ে পাঁচ লাখ, সেখানে বাংলাদেশের একটি জেলার জনসংখ্যাই অনেক বেশি। অথচ কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ খেলছে। তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ফিফার ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে তারা অবকাঠামো উন্নয়ন, সুশাসন ও লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন পেয়েছে। প্রবাসী কেপ ভার্দিয়ানদের নিয়ে তারা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী দল। আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া রবার্তো লোপেস, ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা লোগান কোস্তা—ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাদের একত্রিত করে তারা গড়েছে 'ব্লু শার্কস'। কোচ বুবিস্তা দলকে দিয়েছেন কাঠামোবদ্ধ খেলা, আত্মবিশ্বাস ও একটি স্বপ্ন।
হাইতির গল্পও কম অনুপ্রেরণাদায়ক নয়। জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ—বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম, কিন্তু নিজেদের মাটিতে ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলেও তারা ঘরের মাঠের সুবিধা ছাড়াই জিতে নিয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট। কনকাকাফ বাছাইপর্বের গ্রুপ সি-তে শীর্ষস্থান দখল করে তারা নিশ্চিত করেছে ইতিহাস। ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান মিনিয়ে দলটিকে গড়ে তুলেছেন সংহতি ও কৌশলের ভিত্তিতে।
এই দুই দেশের সাফল্য প্রমাণ করে—জনসংখ্যা বড় হওয়ার চেয়ে পরিকল্পনা বড় হওয়া জরুরি। ফুটবলের আসল সম্পদ মানুষ নয়, সেই মানুষকে কাজে লাগানোর কাঠামো।
বাংলাদেশের ফুটবলের পতনের গল্পটা দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক। এর শেকড় রয়েছে অবকাঠামো সংকটে, প্রশিক্ষণের অভাবে়, লিগের অনিয়মে ও সংস্থার দুর্বল ব্যবস্থাপনায়।
এর ফলে বাংলাদেশের জাতীয় দল বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক মানের খেলা থেকে বঞ্চিত। এক কোচের ভাষায়, "বাংলাদেশ প্রায় দুই বছর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেইনি"। অথচ নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছাড়া কোন দলই বিকশিত হতে পারে না।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণের পথে বাংলাদেশকে যে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।
বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান অবস্থা যেমন হতাশাজনক, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ারও কারণ আছে। নারী ফুটবল দল এশিয়া কাপ খেলছে, যুব পর্যায়ে কিছু সাফল্য আসছে। ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা অটুট। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিষ্ঠা।
কেপ ভার্দে দেখিয়েছে, জনসংখ্যা বাধা নয়—ইচ্ছা আর পরিকল্পনাই পারে ইতিহাস বদলে দিতে। হাইতি দেখিয়েছে, প্রতিকূলতাও পরাজিত করা যায় যদি থাকে সঠিক মানসিকতা ও কৌশল। বাংলাদেশের সামনেও সেই সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, কিন্তু ২০৩০ বা ২০৩৪ সালে হয়তো থাকতে পারে—যদি আজ থেকেই শুরু হয় সঠিক প্রস্তুতি।
মনে পড়ে কেপ ভার্দের এক ভক্তের কথা, যিনি বলেছিলেন, "পুরো বিশ্ব আসে আমাদের কাছে। এখন আমরা যাই বিশ্বের কাছে"। বাংলাদেশও কি একদিন ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলতে পারবে—আমরাও এসেছি?
ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব শুধু খেলোয়াড়দের নয়—আমাদের সবার। ফুটবল ফেডারেশনের, ক্রীড়া সংস্থার, সরকারের, সংবাদমাধ্যমের, আর সর্বোপরি দেশের ২০ কোটি ফুটবলপ্রেমীর। কারণ ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে পুড়লেও যে স্বপ্নটি এখনও অধরা, সেই স্বপ্নকে ধরা যায়—যদি চাই।
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি যেন এক চিরন্তন প্রশ্নবোধক। ১৯৭৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫২ বছর পেরিয়ে গেছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে লাল-সবুজের দল বারবার ব্যর্থ হয়েছে প্রথম দিকের বাছাইপর্ব পেরোতেও। অথচ বিশ্বকাপের মঞ্চ এখন আগের চেয়ে প্রশস্ত—২০২৬ সাল থেকে ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। দরজা আগের চেয়ে বড় হয়েছে, কিন্তু সেই দরজা পেরিয়ে ঢোকার পথটি কি বাংলাদেশের জন্য কখনো উন্মুক্ত হবে? নাকি এই স্বপ্ন চিরকাল অধরাই থেকে যাবে?
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফুটবল যে পথে হাঁটছে, সেই পথে আগামী এক দশকের মধ্যেও বিশ্বকাপের স্পর্শ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফুটবল উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছেন, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ঘরোয়া লিগকে এশিয়ার শীর্ষ ১০ লিগের মধ্যে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় দলকে এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত রাউন্ডে পৌঁছানোর সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০৪০ সালে।
এই সময়রেখা যদি দেখি, তাহলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাব্য সময় ২০৪০ সালের পর—অর্থাৎ এখন থেকে আরও প্রায় দেড় দশক। কিন্তু এই হিসাবও ধরে নিচ্ছে যে পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে, যা বাস্তবে কখনোই ঘটেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৮৪। এই র্যাঙ্কিং থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে ধাপে ধাপে উন্নতি করতে হবে—প্রথমে এশিয়ার মধ্যম পর্যায়ে, তারপর শীর্ষ পর্যায়ে, তারপর বাছাইপর্বের শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি ধাপে পৌঁছাতে কমপক্ষে ৫-৭ বছর লাগে, যদি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও পরিকল্পনা থাকে।
তবে বাস্তবতা আরও ভয়াবহ। গত ২৩ বছরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের কোনো জয় নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার অভাব, অবকাঠামোগত সংকট, এবং যুব উন্নয়নের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি—এই তিনটি স্তম্ভ যতদিন দুর্বল থাকবে, ততদিন বিশ্বকাপের স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।
তবুও হতাশার মাঝে আশার কথা শুনিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, 'অবশ্যই বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে'। তিনি বলেছেন, ফিফার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া। কেপ ভার্দ, কুরাসাও, উজবেকিস্তান, জর্ডানের মতো দলগুলো যেভাবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করছে, বাংলাদেশও সেই তালিকায় যোগ দিতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা ফিফা প্রধানের।
ইনফান্তিনো আরও বলেছেন, 'বাংলাদেশ ফুটবলের দারুণ এক দেশ, যেখানে ফুটবল ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে; তাদের অবশ্যই সুযোগ আছে। বাংলাদেশের ফুটবল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিকাশে ফিফা প্রচুর বিনিয়োগ করছে'। তিনি 'অদূর ভবিষ্যতে' বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু 'অদূর ভবিষ্যত' বলতে কী বোঝায়? ফিফা সভাপতির আশাবাদী বাণী নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক, কিন্তু তার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কোনো বাস্তব পরিকল্পনা যুক্ত না থাকলে তা কেবল কথার কথাই থেকে যায়।
যদি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আজ থেকেই একটি সুসংহত ও স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ২০৪০ সালের মধ্যে বাছাইপর্বের চূড়ান্ত রাউন্ডে পৌঁছানো সম্ভব। তারপর চূড়ান্ত পর্বে খেলতে আরও ৫-১০ বছর সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ ২০৪৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক হতে পারে—যদি সবকিছু ঠিকঠাক যায়। কিন্তু 'যদি' শব্দটি এখানে সবচেয়ে বড় বাধা। কারণ বিগত ৫৫ বছরে ফুটবলের উন্নয়নে তেমন কোনো ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি।
বর্তমান যে গতিতে বাংলাদেশের ফুটবল এগোচ্ছে—অনিয়মিত লিগ, যুব উন্নয়নের অভাবে, অবকাঠামো সংকটে, এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায়—সেই গতিতে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ফুটবলবিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার অন্যান্য দলগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের উন্নতির গতি অনেক ধীর। ভারত, ভুটান, মালদ্বীপের মতো দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ফুটবল অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পিছিয়ে রয়েছে। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে হয়তো বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ দেখতে আরও ৫০ বছর অপেক্ষা করতে হবে—অথবা কখনোই দেখা হবে না।
বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ ফুটবল দেখতে ভালোবাসে, কিন্তু সেই ভালোবাসা কখনো মাঠের ফুটবলে রূপান্তরিত হয়নি। বিশ্বকাপের জ্বরে পুড়ে যায় দেশ, কিন্তু সেই জ্বর কখনো জাতীয় দলকে উষ্ণায়িত করে না। ফিফা সভাপতি যেমন বলেছেন, 'বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় প্রতিভা রয়েছে'—কিন্তু সেই প্রতিভাকে কাজে লাগানোর কাঠামো কোথায়?
উত্তরটি সহজ: বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে পারবে তখনই, যখন ফুটবলকে শুধু আবেগ নয়, পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হবে। যখন স্কুল-কলেজে ফুটবল বাধ্যতামূলক হবে, যখন জেলা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট নিয়মিত হবে, যখন ক্লাবগুলো নিজস্ব একাডেমি গড়বে, যখন বাফুফে হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। এই সবকিছু করতে সময় লাগবে—কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর।
তাই ২০৪০ সালের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে? নাকি ২০৬০ সালেও অপেক্ষা করতে হবে? উত্তরটি নির্ভর করে আজকে আমরা কী করছি তার ওপর। ফুটবল বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, তা নির্ভর করে আজকের সিদ্ধান্তের ওপর—আজকের সংস্কারের ওপর, আজকের বিনিয়োগের ওপর। ফিফা সভাপতি যেমন বলেছেন, 'আমরা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি'। সেই 'অদূর' কত দূর—সেটা এখন আমাদের হাতেই।
আজ যদি শুরু না হয়, তবে অপেক্ষা করতে হবে হয়তো সারাজীবন। আর আজ যদি শুরু হয়, তবে ২০৪০ সালের বিশ্বকাপ হয়তো দেখতে পারে আজকের শিশুরা—তখন তাদের বয়স হবে যুবক। সেই শিশুদের হাত ধরেই হয়তো একদিন লাল-সবুজের পতাকা উড়বে বিশ্বকাপের মাঠে। অপেক্ষা না করে পদক্ষেপের সময় এখনই।
⚽ বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়—ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঠে বাংলাদেশের নাম নেই কেন? কেপ ভার্দে পারে, হাইতি পারে, উজবেকিস্তান পারে—তাহলে ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ কেন পারে না? বিশ্বকাপের স্বপ্ন কি শুধুই আবেগ, নাকি ভুল পরিকল্পনা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা আর হারিয়ে যাওয়া তৃণমূল ফুটবলের গল্প? ⚽🇧🇩 গ্যালারির উন্মাদনা থেকে বিশ্বকাপের মাঠে—বাংলাদেশের যাত্রাপথ কত দূর?
–অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)
#বাংলাদেশ_ফুটবল #বিশ্বকাপ২০২৬ #BangladeshFootball #FIFAWorldCup2026 #RoadToWorldCup #FootballDevelopment #BangladeshSports #WorldCupDream #FootballReform #BFF #কেপভার্দে #হাইতি #ফুটবলপাগলা_জাতি #লালসবুজের_স্বপ্ন #বাংলাদেশ_কবে_বিশ্বকাপে #SportsAnalysis #OdhikarpatraSports #FootballPolicy #Vision2040 #WorldCupJourney
Keywords
বাংলাদেশ ফুটবল, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ, FIFA World Cup 2026, Bangladesh Football Team, BFF, Bangladesh FIFA Ranking, Bangladesh World Cup Dream, Cape Verde World Cup, Haiti Football, Football Development Bangladesh, Bangladesh Sports Policy, Bangladesh Football Crisis, Bangladesh Football Academy, Bangladesh Football Future