06/26/2026 দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার: ৬২১ কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি স্থগিত, শিক্ষকদের গ্রামে ফেরার কড়া বার্তা মন্ত্রীর
Special Correspondent
২৫ June ২০২৬ ২২:৩০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। একদিকে শিক্ষার্থীশূন্যতার কারণে দেশের ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, অন্যদিকে শহরের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা শিক্ষকদের পুনরায় গ্রামে পাঠানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সাথে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নানামুখী কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
শিক্ষার্থীশূন্য ৬২১ কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি স্থগিত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ
দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় দেশের ৬২১টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে বিধি মোতাবেক এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আল মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ৪৪৩টি এবং দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ১৭৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের ভর্তি বন্ধ থাকবে। এছাড়া, আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ব্যাখ্যা বোর্ডের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী—অবকাঠামো, ভর্তি, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
২০ বছর ধরে শহরে থাকা শিক্ষকদের গ্রামে পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী
এদিকে, শিক্ষা খাতের আরেকটি বড় সংকটের দিকে আঙুল তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন: যারা বিগত ২০ বছর ধরে গ্রামের শিক্ষা ফাঁকি দিয়ে শহরে এসেছেন, তাদের আবারও গ্রামে পাঠানো হবে। গ্রামে শিক্ষক সংকট থাকবে আর সকলে শহরে এসে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষকতা করবেন, সেটা হতে পারে না। শিক্ষায় গ্রামাঞ্চল অনগ্রসর থাকতে পারে না।
তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৬০ হাজার শিক্ষকের সংকট রয়েছে, যা দূর করতে পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবার থেকে খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বর যোগ না করে সম্পূর্ণ খাতা পুনরায় চেক করার আইন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী জুলাই মাস থেকে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও 'মিড ডে মিল' দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
অবকাঠামোর চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার
উচ্চশিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য জানিয়েছেন, সরকার এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইউজিসি।
উচ্চশিক্ষালয়ে জলবায়ু ও পুঁজিবাজার নিয়ে কর্মশালা
শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী জ্ঞান দানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাধিক সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা শহরের তীব্র তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাডাপ্টেশন স্ট্র্যাটেজিস ফর এক্সট্রিম हीट ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক একটি আইডিয়া শেয়ারিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি: তরুণ প্রজন্মকে বিনিয়োগে সচেতন করতে এবং পুঁজিবাজারের ঝুঁকি ও কাঠামো সম্পর্কে ধারণা দিতে ‘পুঁজিবাজার পর্যালোচনা’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (BASM)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়।
সার্বিকভাবে, কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র