08/05/2026 আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, পরে হলে প্রবেশ ছাত্রদলের
odhikarpatra
৫ August ২০২৬ ০০:০০
অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া (ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা) এলাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আল্লামা কাশগরী (রহ.) আবাসিক হলে প্রবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, হলে প্রবেশের পর ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতা-কর্মী কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় এবং হলের ফটকে তালা লাগানো হয়।
যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতা-কর্মী হলে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা হলের বাইরে অবস্থান করছিলেন।
ছাত্রদলের নেতা মো. ইব্রাহীম দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হল সাময়িকভাবে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান দাবি করেছেন, সংঘর্ষে তাদের ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ফুয়াদ নামে এক কর্মীর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তাকে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
অপরদিকে, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রদলের নেতা সাদ চৌধুরী দাবি করেন, সংঘর্ষে ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
এর আগে বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পুলিশ প্রথমে সীমিত সংখ্যক সদস্য নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ছাত্রশিবিরের দাবি, ছাত্রদল প্রথমে হলে ঢুকে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে হলের কয়েকটি কক্ষ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এবং এ নিয়েই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে ছিল।