08/06/2026 বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক ধারণা পুলিশের
odhikarpatra
৫ August ২০২৬ ২৩:৫৮
অধিকারপত্র ডটকম : ০৫ আগস্ট ২০২৬
জেলা প্রতিনিধি | বাগেরহাট
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহগুলোর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন—আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে ভেতরে গিয়ে তিনটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। দীর্ঘ সময় সুরতহাল শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহাদ হাওলাদার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লাইন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মা মনিরা বেগম স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করতেন। মা-ছেলে একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বলেন, মরদেহগুলোতে পচন ধরেছে এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে, এমনকি দুই থেকে তিন দিন আগেও ঘটে থাকতে পারে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, মরদেহের আঘাতের ধরন বিবেচনায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যার রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।