08/18/2026 ইসলামাবাদ সমঝোতা নিয়ে ইরানের বার্তা: মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে কোনো আপস নয়
Special Correspondent
১৮ August ২০২৬ ০০:০০
নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (MoU) পূর্ণ মর্যাদা ও শক্তির সঙ্গেই অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর (ISNA) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নীতি অনুসরণ করেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই সমঝোতাকে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি ইরানের শক্তি এবং কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক, যেখানে দেশের মর্যাদা ও স্বাধীনতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সংঘাতে ইরান ‘ঐতিহাসিক ও প্রকৃত বিজয়’ অর্জন করেছে। কূটনীতির ময়দানে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি একটি বিজয়ের দলিল হিসেবে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে কড়া হুঁশিয়ারি ও সামরিক হুংকার
এরই মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায় থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইরানের সেনা প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানান, কৌশলগত জলপথ বা প্রণালি নিয়ে কোনো ধরনের দুঃসাহস বা মার্কিন একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি মেনে নেওয়া হবে না। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটি ইরান, এবং এর এমন রক্ষক রয়েছে যারা যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
মেজর জেনারেল হাতামি আরও দাবি করেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ অন্তত একবার হামলা চালিয়েছে, যার ফলে এর যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির যুগ চিরতরে শেষ হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি জনসমর্থিত ক্রাউডফান্ডিং বা আর্থিক অনুদান উদ্যোগের ঘোষণা দেন।
এই প্রকল্পের আওতায় কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করে ইরানি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে পারলে ৫ বিলিয়ন তামান (প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, কোনো ইরানি নারী এই কৃতিত্ব অর্জন করলে তাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
পাইলটের মৃতদেহ ও কাতার বিতর্ক
অন্যদিকে, কাতারের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনও কাটেনি। তেহরানের দাবি, তাদের কিছু পাইলটকে কাতারি বাহিনী আটক করেছে, যার সত্যতা জানতে একটি ইরানি তদন্ত দলকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।
তবে কাতারের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। দোহার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানি বিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে এবং যোগাযোগে সাড়া না দিলে তল্লাশি চালিয়ে তারা একজন পাইলটের মৃতাবশেষ উদ্ধার করে। কাতার মৃতদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য তেহরানকে আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি দোহার।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাকেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন, কাতার কৃত্রিমভাবে তদন্তে বিলম্ব করছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র