08/28/2026 রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতির
odhikarpatra
২৭ August ২০২৬ ১৯:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে দেশের ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভার পদ থেকে সরে এসেছেন। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে তিনি এখন সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন। দেশের কল্যাণে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগের কোনো স্থান থাকবে না। দেশ ও জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর কাজের প্রধান বিবেচনা।
তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই বঙ্গভবনের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার।
রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের গোপনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা কোনোভাবে ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি অপচয় বন্ধ এবং সরকারি সম্পদের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা থাকা জরুরি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জীবনেও শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র ও দেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সবাই একই পরিবারের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
ভবিষ্যতেও বঙ্গভবনের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।