08/29/2026 শহীদদের ত্যাগ বৃথা যাবে না, প্রত্যাশা পূরণে সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
২৯ August ২০২৬ ২০:৩৮
ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ৭৪ জনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা নির্যাতন ও নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর পাশে সরকার থাকবে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, যেসব পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মধ্য দিয়ে গেছে, সেই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজন একই সঙ্গে বেদনাদায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ। যাদের আজ পরিবারের পাশে থাকার কথা ছিল, তাদের অনেকেই আর নেই।
তিনি বলেন, এসব মানুষের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা বর্তমানে কোথায় বা কী অবস্থায় আছেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা, বিভিন্ন সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষ এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।
বাস্তবতার কারণে সব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সরকারের কাজের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পরিবারের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতাই সরকারকে দায়িত্ব পালনে সাহস জোগাচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারের পাশে থাকার পাশাপাশি সরকারের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন।
এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।