08/31/2026 জিসান হত্যা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
odhikarpatra
৩০ August ২০২৬ ২৩:৫৭
অধিকার পত্র ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আব্দুর রহমান জিসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়েসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৬ অক্টোবর চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক।
এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানও মামলার আসামি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন জিসান। আন্দোলনকারীদের পানি পান করানোর সময় গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট এখন আদালতে গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
Meta Title: জিসান হত্যা: হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
Meta Description: জুলাই আন্দোলনে জিসান হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়েসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ৬ অক্টোবর শুনানি।
SEO Keywords: জিসান হত্যা, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, জিসান হত্যা মামলা, ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, জুলাই আন্দোলন, যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল
Slug: jisan-murder-hasina-joy-29-charge-sheet
Excerpt: জুলাই আন্দোলনের সময় জিসান হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়েসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
অধিকার পত্র ডেস্ক
গুমের ঘটনায় জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের, তারা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’
তিনি বলেন, গত দেড় দশকে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মাধ্যমে দেশে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে যাওয়া ও গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই শাসনব্যবস্থার পতন হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গুম কেবল একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না; এর সঙ্গে একটি পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও হারিয়ে যায়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।
গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। এসব পরিবারের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছে—সেটিই রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের অন্যতম মানদণ্ড।
অনুষ্ঠানে গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।