09/03/2026 জ্বালানি সংকট কাটাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
২ September ২০২৬ ২১:৫৮
সংসদ প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
দীর্ঘদিনের গ্যাস অনুসন্ধানে ঘাটতি ও আমদানিনির্ভরতার কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-৩৫-এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন উৎস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং গ্যাস অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশিষ্ট কূপগুলোও পর্যায়ক্রমে খননের জন্য প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) আরও সক্ষম করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।
অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর মডেল পিএসসিও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি দৈনিক আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য।
এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।