09/04/2026 ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য পরিকল্পিত: প্রধানমন্ত্রী
odhikarpatra
৩ September ২০২৬ ২৩:১৩
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান দশকে রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা।”
ইআরএলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে আইএসডিবি প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে। এ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও আইএসডিবির মধ্যে মোট ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বিপিসির পরিশোধন ক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশে ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু অর্থনীতির আকার বাড়ানো নয়; দেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করাও সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এ কারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তা বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। গত পাঁচ বছরে তাঁর নেতৃত্বে আইএসডিবি সদস্যদেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইআরএল প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি আইএসডিবির আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশ এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।
আইএসডিবির বৃহত্তর ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, সদস্যদেশগুলোর নিজ নিজ সক্ষমতা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, জ্বালানি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি শুধু একটি জ্বালানি বিনিয়োগ নয়; এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।