09/04/2026 ১৫ হাজারের বেশি নয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাইয়ে নিখোঁজ ১৫,৭১৭ শিশু: পুলিশ
odhikarpatra
৩ September ২০২৬ ২৩:২৬
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবরের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। পুলিশের যাচাই অনুযায়ী, এ সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, আর এখনো উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
পুলিশ বলছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে—এমন খবর প্রকাশিত হয়। তবে এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে কিংবা কতজন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে তথ্য উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
অন্যদিকে, একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।
পুলিশের যাচাইয়ে দেখা গেছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাসায় ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণেও তারা নিখোঁজ হয়।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে অভিমান, পড়াশোনার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে। এর ফলে জিডি করার সুযোগ সহজ হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, শিশু নিখোঁজের পরিসংখ্যান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া ও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া শিশুদের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এতে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।